বাংলায় লোকায়ত সাধনার বিকাশ ও প্রসারের ক্ষেত্রে বলা চলে নদিয়ামণ্ডল একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। নদিয়া তার সাধনার উদ্যাপন দিয়ে এটা বোঝাতে পেরেছিল সাধনের মূল মন্ত্রটি হল হওয়া, হয়ে ওঠা। শ্রীচৈতন্যদেবের নারীবেশে ব্রজলীলাকে নদিয়াতে এনে ফেলাই নদিয়ামণ্ডলকে মাতৃকামণ্ডল হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়ার একটি বাতাবরণ সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘোষণারই সদর্থক প্রকাশ আমরা দেখি নদিয়ার ধর্মে। কর্তাভজা সম্প্রদায়ের কত্রীর কর্তা মা রূপে প্রকাশ; সরস্বতী দেবী থেকে একেবারে সতী মা হয়ে ওঠা মহাপ্রভু বাহিত মাতৃকামণ্ডলকেই যেন নদিয়াতে তুলে ধরে। বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈত আচার্যের সহধর্মিণী সীতা দেবীর সীতা মা হয়ে ওঠা এবং নিত্যানন্দ প্রভুর সহধর্মিণীর স্বামীর অবর্তমানে দিশাহীন বাংলার বৈষ্ণবধর্মকে বাহিত সেই মাতৃকামণ্ডলের গুণাবলি দিয়েই জাহ্নবা মা হয়ে উঠে পথ দেখানোর ভেতর নদিয়ার নারী আধারটিই ভীষণরূপে যেমন চিহ্নিত হয়ে পড়ে তেমনই এটাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে নদিয়ার ধর্ম ভেদাভেদ, লিঙ্গ রাজনীতি হতে প্রথম থেকেই বাইরে দাঁড়িয়ে কেবলই হয়ে উঠতে চেয়েছিল। মহাপ্রভুর সহধর্মিণী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী নদিয়া
থেকে স্বামীর চিরতরে চলে যাওয়ার পরই আড়াল নিয়ে, লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়ে শুধুমাত্র স্বামী ব্যবহৃত পাদুকা বা খড়মকে ভর করে যে কৃষ্ণপ্রাপ্তির দশাচিহ্নটি আমাদের দেখিয়ে দিলেন, সেখান থেকে এটা তো স্পষ্ট হল যে, মানুষ ও ভগবানের ভেদতত্ত্বটি মুছে দিতে চেয়েছিল নদিয়া। আর সেই
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""