মৃণাল সেন আজ ৯৫ বর্ষে পদার্পণ করলেন। ১৯৫৫ সালে 'রাতভোর' দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রঅষ্টা জীবনের শুরু এবং ২০০২ সালে 'আমার ভুবন'এ এসে শেষ। সুদীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে প্রায় বছরই (ব্যতিক্রম কিছু আছে) ছবি করেছেন।
উপসংহারে, জীবন এবং তাঁর সাধনা থেকে কিছু সত্য পরিষ্কার-তিনি, 'বাইশে শ্রাবণ'-এ খুব হৈ চৈ ফেলেছিলেন বলে মনে হয় না। কিন্তু আমাদের অন্তরে 'ধাক্কা' দিয়েছিলেন। ছবিতে চেয়েছিলেন জনমনোরঞ্জন নয় জনমানসে 'ধাক্কা' দেওয়া।
তিনি, 'বাইশে শ্রাবণ' তৈরি করার পর চলচ্চিত্রে সত্যকার মনস্ক দর্শকদের ভাবিত কবে সত্যজিৎ, ঋত্বিক-এর মতো নিজস্ব কক্ষে চলে এলেন।
তিনি, গল্প বলার ফর্ম আর ডকুমেন্টারি ফর্ম-এই দুইএর থিসিস এবং অ্যান্টি থিসিস মিলনের যে চেষ্টা করেছিলেন তার ফল 'আকাশ কুসুম'।
তিনি, 'আকাশ কুসুম'এ অত্যধিক ফ্রিজ শটের ব্যবহারের মধ্যে শেষ করেছেন, চিত্রনাট্য ভেঙে শেষ করে দিয়েছেন তাই আকাশ কুসুমকে ক্রো ফিল্ম বলা চলে না। এবং চিত্রনাট্যে, সংলাপে তাঁর মুন্সিয়ানা, সেখানেই তাঁর স্মার্টনেস। সেখানেই তাঁর সার্থকতা।
তিনি, মনে হয় প্রথম বাঙালি পরিচালক যিনি বুঝেছিলেন অন্য প্রদেশে গিয়ে ছবি
তৈরি করতে হবে বাঙালি পরিচালকদের, অন্য ভাষায়।
তিনি, 'মাটির মনিষ' করে ব্যর্থ হলেও-সৃষ্টি করার দুঃসাহস না নিলে সর্বোৎকৃষ্ট
'ভুবন সোম' সৃষ্টি হতো না।
তিনি, তীব্র ব্যঙ্গের স্বরে 'ভুবন সোম'এ বলেছেন, এ যুগে মানবিকতার কথা যারা বলেন-তারা ভাবুন-এ সিস্টেমে সেটা সম্ভব কিনা? দর্শক চিত্তাকর্ষক এবং একটা
সুখের ছবিতে দেখলেন সমাজের একটা বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
গল্প বলা ছবিকে ভেঙে চলচ্চিত্রে প্রবন্ধধর্মিতা আনার ব্যাপারে- তিনি সার্থক কিন্তু পুরোপুরি সফল হননি তবে তিনিই পথিকৃৎ-যে প্রচেষ্টার মূল্য বর্তমানকাল পেরিয়েও অনাগত কাল দেবে বলে বিশ্বাস। কেন না গল্প বলা নিয়ে অনন্তকাল চলবে না।
রাজনৈতিক বিষয় ছিল তাঁর সব ছবির মূল পটভূমি। রাজনৈতিক চলচ্চিত্র-কে
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""