মেক্সিকোর ইতিহাসে লা মালিক্ষে এক ঐতিহাসিক মহিলা চরিত্র। স্পেন থেকে ভারতে আসার জন্য ক্রিস্টোফার কলম্বাসকে পাঠানো হয়েছিল স্পেনের রাজার পক্ষ থেকে।
জলপথে দীর্ঘ যাত্রা করে তাঁরা একটি দ্বীপে পৌঁছন এবং মনে করেন যে তাঁরা ভারতে চলে এসেছেন। আসলে তাঁরা একটি নতুন জগত আবিষ্কার করেছিলেন, যা হল মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা। সেখানে স্পেনের রাজার আধিপত্যের সূচনা ঘটল। পরবর্তীতে সেখানে স্পেনের রাজা ও বানি জাহাজ ভর্তি করে সৈন্যসামন্ত এবং আরও বহু পেশার লোক সমাগম ঘটালেন। ক্রমে স্পেনীয় ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং খ্রীষ্টান ধর্ম সেখানকার মানুষদের প্রভাবিত করল অর্থাৎ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হল তাঁদের উপর। এমনকি অত্যাচার এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদের নিজস্বতা নষ্ট করে দেওয়া হল। ইতিপূর্বে সেখানে আজতেক নামের এক উন্নত সভ্যতার রাজত্ব কায়েম ছিল। এইভাবে ধীরে ধীরে তা স্পেনের উপনিবেশে পরিণত হল। স্পেন থেকে যে সমস্ত জাহাজ আসত তাদের সেনাপতি ছিলেন এরনান কোর্তেস। এক কথায় ওই অঞ্চলে তাঁরই একচ্ছত্র আধিপত্য শুরু হয়। সেই আধিপতা কায়েম হওয়ার শুরুতেই তিনি মালিকানা পান ওখানকার এক ভূমিকন্যার যার নাম ছিল মালিনাল্যি। জন্মসূত্রে সে ছিল এক স্থানীয় গোষ্ঠীপতির কন্যা। শৈশবে পিতৃহারা হওয়া ওই মেয়েটিকে তার মা দাস বাজারে বিক্রি করে দিয়েছিল আর এক জন মানুষকে বিয়ে করার পর। সেই মেয়েটিই ক্রীতদাসী হিসেবে নানা হাত ঘুরে পৌঁছয় স্পেনের সেনাপতি এরনান কোর্তেসের কাছে। খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তার নতুন নাম হয় মারিনা এবং সে সকলের কাছে পরিচিত হয় লা মালিঞ্চে নামে। তার বেশ কিছু নিজস্ব গুণ ছিল। তার মধ্যে একটি ছিল নানা ভাষা শিখে নেওয়ার সহজাত ক্ষমতা। সেই জন্য স্প্যানিশ ভাষাটা আয়ত্ত করতে তার খুব বেশি সময় লাগল না। ফলত সে দোভাষী হয়ে ওঠে এরনান কোর্ডেসের এবং তাঁর কাছের মানুষও হয়ে ওঠে। এমনকি আজতেকদের রাজার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কোর্তেসের একমাত্র সহায় হয়ে উঠল সে। এক কথায় মালিঞ্চের জীবনে এক ব্যাপক উত্তরণ ঘটে। পরবর্তীতে সে জন্ম দিয়েছিল কোর্তেসের সন্তান মার্তিনের, যে ছিল স্পেনীয় এবং স্থানীয় মিশ্র রক্তের প্রথম মানুষ।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""