গ্রন্থ রচনা সহজ কথা নয়। অনেক পড়াশোনা পরিশ্রম, মনন, চিন্তন থাকে তার পিছনে। বিশেষ ভালোলাগা না থাকলে গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করা যায় না। অন্যদের কথা জানা নেই কিন্তু আমি নিজে অন্ততঃ বিশেষভাবে কোনো বিষয়বস্তু
বা মহৎ প্রাণর প্রতি আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত হলে তবেই সেই কাজ করতে পারি। আমার নিজস্ব সমস্ত সৃষ্টির পিছনের এইটিই মূলসূত্র। কিন্তু এই বই রচনাকালে ভালোলাগা ও আকর্ষণের পিছনে আরো একটি বিশেষ মনোভাব কাজ করেছে, সেটি হল আন্তরিক দায়বদ্ধতা। স্বামী বিবেকানন্দের পাঠ ও অনুধাবন জাগিয়েছে এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা, এমন একটি গ্রন্থ রচনার। সেই অর্থে এই বই শুধুমাত্র ভালোলাগা ভালোবাসারই ফল নয়, উপরন্তু স্বামীজি হেন মানুষের দ্বারা উদ্বুদ্ধ ও তাঁর অনুপ্রেরণা প্রসূত, গ্রন্থ রচনায় যে বা যেমন ধারা মনোভাব সচরাচর দৃষ্টিগোচর হয় না। স্বামীজির 'কমপ্লিট ওয়ার্কস', 'দি লাইফ' পড়ে এ কথা মনে হয়েছে যে আমার নিজের ভাষায় অন্ততঃ এমন একটি বই লেখা প্রয়োজন, বিশেষকরে সাধারণ মানুষদের জন্য যারা প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার সঙ্গে যুঝে চলেছে, যারা সকলের মাঝে থেকেও বড়ো একা, যারা উথালি-পাথালি জীবন সাগর তরঙ্গে দিশাহারা- যাদের শক্ত-পোক্ত এক মাস্তুলের প্রয়োজন, প্রয়োজন স্থিতিশীলতার ও সেই মূলমন্ত্রের, যা তাকে পথ দেখাবে। আঁধার রাতে জীবন অরণ্য ভেদ করে এগিয়ে নিয়ে যাবে তার অভিলাষিত গন্তব্য অভিমুখে। এই মহতের মহামন্ত্রকে ধারণ করেই সুভাষ একাকী অলঙ্ঘনীয় মরু-গিরি- প্রান্তর অতিক্রম করেছিলেন। এনেছিলেন ভারতে স্বাধীনতা, শুধুমাত্র অদেখা বিবেকানন্দকে মনে প্রাণে মন্ত্রগুরু মেনে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""