সাহিত্য, ভাস্কর্য বা চিত্রশিল্পের মতো অন্যান্য নান্দনিক অভিব্যক্তির তুলনায় গানে শিল্পী ও উপভোক্তার অবস্থান অনেক কাছাকাছি। গানে মুগ্ধ হলে ভালো শ্রোতা সেই গান গুনগুন করেন দু-লাইন। অন্যান্য শিল্পকর্মে এমন প্রতিফলন দেখা যায় না। অদ্ভুত ব্যাপার- গানের সঙ্গে সাধারণ শ্রোতার এতখানি নৈকট্য থাকা সত্ত্বেও গান সম্পর্কিত লিখিত মতামত শতকরা দু-ভাগ বিশেষজ্ঞরাই দিয়ে থাকেন। শতকরা আটানব্বই ভাগ শ্রোতার চিন্তাধারা মৌখিক মত বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকে। এই বই সেই নিয়মকে ভাঙার বই, প্রথাগত শিক্ষাবিহীন শ্রোতার মননে লেখা। বিশেষজ্ঞ না হওয়ার বিশাল সুবিধে, সৎ উপলব্ধিকে অকপটে ভাষা দেওয়া যায়, বিশেষজ্ঞ যা পারেন না নানান কারণে। শ্রোতার কারও সঙ্গে একমত হওয়ার দায় নেই। লেখকের মতে বৈদিক সঙ্গীতধারার রেশ শেকড়ে নিয়ে বাংলাগানের যাত্রা শুরু আর নজরুল ইসলামে এসে তার প্রথম কল্পের শেষ। এই লেখায় ন-টি পর্বে আঁকা হয়েছে সেই কল্পের ইতিবৃত্ত।
রচনা আর প্রবন্ধের মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। রচনার মধ্যে শিক্ষকতা থাকে, প্রবন্ধ নিছক সাহিত্য। বাংলা ভাষায় রচনা লেখা হয় প্রচুর, প্রবন্ধসাহিত্যের উদাহরণ কোটিকে গুটিক। রচনায় পাণ্ডিত্য থাকে, প্রবন্ধ ভাবায়। এই বই ভাবনার রসে জারিত হওয়ার উদ্দেশ্যে লেখা, রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য নয়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""