গ্রীষ্মের সেই দুপুরটা, যখন কলকাতার দাবদাহ থেকে পালিয়ে কার্সিয়ং যাত্রার আরস্তে নিউ জলপাইগুড়িগামী শতাব্দী এক্সপ্রেসে বসে সরসিজের ফোনের উত্তর দিয়েছিলাম, সেটা আমার কাছে একটা রেড-লেটার ডে হয়ে থাকবে। সরসিজ সংক্ষেপে বলেছিল, "তোমার পরবর্তী লেখার জন্য একটা বিষয় পেলাম। তুমি পারবে, আমি না।"
সরসিজ পারবে না শুনলে বুক দুরদুর করে ওঠে। জিজ্ঞেস করলাম, কী বিষয়? বলল, "সৈয়দ আলাওলের নাম শুনেছ?"
শুনিনি জেনে দু-কথায় বলেছিল, "মধ্যযুগীয় আরাকানি বাঙালি কবি। অদ্ভুত জীবন। ছটা কাব্য লিখেছেন; বা বলা ভালো, অনুবাদ করেছেন।"
আরাকানে বাঙালি কবি। তার ওপর অনুবাদক। অবাক হয়েছিলাম। বর্মি মগের মুল্লুক; এ-ই তো আরাকান। সরসিজ বলেছিল, "না। এখনকার ম্যাপ দেখে বুঝতে পারবে না। মোগল-ব্রিটিশ আমলের ম্যাপ দেখো। তখন আরাকান বর্মার অঙ্গ ছিল না। আর চট্টগ্রাম ছিল আরাকানের দখলে।"
মগেরা বাংলায় হানা দিয়ে ক্রীতদাস ধরে নিয়ে যেত; তার বেশি কিছুই জানতাম না। আর জানতাম বাংলার সঙ্গে বর্মার অতীত নিকট-সম্পর্কের কথা। বহু বাঙালির আত্মীয় পরিজন, পূর্বপুরুষ বর্মায় যেতেন কাজ করতে, শরৎচন্দ্র আর ভীষ্মলোচন শর্মার তো বর্মার সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক। তাই বলে মধ্যযুগেও আরাকানে কবিরা বাংলায় লিখতেন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""