গল্প লেখার আগে আমার গল্প বলা শুরু। মেয়ে যখন ছোট, রোজ রাতে তাকে গল্প বলে ঘুম পাড়াতে হত। নিজের পড়া গল্পের ভাণ্ডার শেষ হলে শুরু হল বানানো। আমার বানানো গল্প তার ভারি পছন্দ হচ্ছে দেখে ঠিক করলাম ছোটদের জন্য লিখব। কিন্তু মেয়ে আর একটু বড় হওয়ার পর যখন তাকে বই পড়ে শোনানোর বয়স হল তখন দেখলাম অন্যরকম সমস্যা হচ্ছে। যে রূপকথা আমার খুব প্রিয় ছিল, তার ভালো লাগছে না। সে বুঝতে পারছে না ঘুঁটেকুড়ুনি কাকে বলে। জানতে চাইছে রাজার সাতটা রানি আছে কেন। বুঝতে পারলাম প্রচলিত রূপকথার সঙ্গে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের শিশুদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তারা মনের যোগ খুঁজে পাচ্ছে না। তখন ঠিক করলাম নিজেই লিখব আধুনিক রূপকথা। অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন দুজন, নবনীতা দেবসেন আর জয়া মিত্র। আমার লেখা রূপকথায় তাই রাজা-রানি, রাজপুত্র-রাজকন্যা, রাক্ষস-খোক্কস সবই আছে। কিন্তু বিষয় সম্পূর্ণ আজকের শিশুদের উপযোগী। সেখানে তাই রাজার সাতরানি থাকে না। পুত্রকামনায় রাজা-রানিরা সন্ন্যাসীর কাছে শিকড়বাটা খান না। রাজকন্যাও শাসক হতে পারেন। বুদ্ধি আর মেধা থাকলে রাজা হতে পারেন যে কেউ। বোঝানো হয়েছে প্রকৃতি-পরিবেশের গুরুত্ব। তবে সবই একেবারে গল্পের মধ্যে আমে-দুধে মিশিয়ে। রূপকথার নকশিকাঁথার এগারোটি গল্পও একই চিন্তা-ভাবনা থেকে লেখা। শিবাজী বসু অসাধারণ প্রচ্ছদ এঁকেছেন, অলঙ্করণও চমৎকার।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""