বাঙালি লেখক এবং পাঠকমহলে পুরাণ এবং মহাকাব্যের চরিত্রদের পুনর্নির্মাণ ও নতুন আঙ্গিকে বিশ্লেষণ এই মুহূর্তে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। যে কোনো মুহূর্তে বিরিয়ানি, দীপুদাগ্যাং বা রবিবারের খাসির মাংস ভাতকে কম্পিটিশন দেবে। বাঙালির হঠাৎ করে এমনভাবে পুরাণপ্রেমী হয়ে ওঠার পিছনে ইতিহাস সচেতনতা রয়েছে নাকি কারনটা নিতান্তই রাজনৈতিক সে উত্তর ভবিষ্যতই দেবে। কিন্তু ইদানীংকালে এই ধারায় যত লেখালিখি হচ্ছে তার মধ্যে নিখাদ বাঙালির লেখা একেবারেই স্বতন্ত্র।
নিখাদের লেখাকে স্বতন্ত্র বলার প্রথম কারণ নিখাদের ভাষা। গুরুগম্ভীর বিষয়ের আলোচনায় pun এর যথাযথ ব্যবহার যে বিষয়বস্তুর মানকে বা গাম্ভীর্যকে একটুও ক্ষুন্ন করে না বরং অনুপান হয়ে বিষয়বস্তুর রসগ্রহণে সাধারণ পাঠককে সাহায্য করে তার প্রমান পাবেন এই বইয়ের প্রতি পদে। পুরো লেখাতেই বৈদেশিক শব্দ এবং তৎসম শব্দ সমানভাবে একে অন্যকে সঙ্গ দিয়ে চলে; কিন্তু কোথাও পাঠকের পাঠে বাধা পড়ে না। এই অনায়াস সহাবস্থান নিখাদের সিগনেচার স্টাইল।
ভাষার পরেই আসে বিষয়বস্তুর প্রসঙ্গ। প্রায় প্রতিটি গল্পে মুখ্য চরিত্র
পুরান/মহাকাব্যের এক একজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। গল্পকথার মাধ্যমে নিখাদ সে চরিত্রকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান স্থান থেকে স্থানান্তরে, কাল থেকে কালান্তরে। গবেষকের নিরপেক্ষতায় বিশ্লেষণ করেন প্রতিটি ঘটনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবেশন করেন জানা অজানা বিষয়গুলি। প্রতিটি চরিত্রের মূল্যায়ন করেন সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে। আর সেখানেই এ বই অনন্য। এ বই শেষ পর্যন্ত মনে পড়িয়ে দেয় যে প্রতিটি ঘটনাকে, প্রতিটি মানুষকে আমরা যতটা দেখি, যতটা বুঝি সেটাই সব নয়। আসুন নিখাদ বাঙালির হাত ধরে একবার ঘুরে দেখা যাক চিরপরিচিত পুরাণ ও মহাকাব্যের দুনিয়াটাকে, বেশ খানিকটা অন্যভাবে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""