অনেক দিনের কথা, যখন জীবনের একটি আলোকিত অধ্যায় শেষ করে ভাটপাড়ায় মা'র কাছে ফিরে এলাম। তখন খুব মন খারাপ হত, মনে পড়ত আমার সেই নানা রঙের দিনগুলির কথা, যেখানে আমার একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল, যখন আশা দিয়ে সম্ভাবনা নিয়ে হত অরুণোদয়, দিনান্ত হত মধুর আবেশে। ফিরে পেতে ইচ্ছা করত সেই দিনগুলোকে, কিন্তু যা যায় তা আর ফিরে আসে না, তাই স্মৃতি রোমন্থন করতে খুব ভালো লাগত। তখন একদিন মনে হল, লিখি না কেন আমার জীবন ও ঘর-সংসারের কথা। বড়ঠাকুরকে মধ্যমণি করে শুরু করলাম লিখতে, যেমন ওকে কেন্দ্র করে আমাদের সংসার-চক্র ঘুরত। অবসর সময়ে তখন কিছুটা লিখেছিলাম, তারপর আর লেখা হয়নি।
কয়েক বছর পরে আমার মা মারা গেলেন, অনেক তুফান পাড়ি দিয়ে এলাম মেজদির বাড়ি। এখানে একদিন মনে হল, আমার লেখাটা শেষ করি। মেজদির মেয়েরা কেবলই বলত, "লেখাটা শেষ করে কোনো পত্রিকায় দাও।" আমি ওদের কথায় কিছুমাত্র কর্ণপাত করিনি। লেখার আমি কীই বা জানি, আর কেই বা ছাপাবে আমার লেখা। ওদের বারবার বলায় শেষে আমার মনেও দুরাশা উঁকি দিলো। লেখাটা দিদিকে (রমা বন্দ্যোপাধ্যায়) দেখালাম। দিদি বললে, ভালো হয়েছে। তারপর দিদি আমাকে নানাভাবে অকুণ্ঠ সাহায্য করেছে। এটা আমাদের দু'জনের জীবনের বারমাস্যা। দিদির সহানুভূতি না পেলে অনেক কিছুই আমার পক্ষে লেখা সম্ভব হত না। আমার লেখার নামকরণও দিদি করেছে। একদিন দিদি ও আমি লেখাটার কী নাম দেবো তাই কথা হচ্ছিল, দিদি বললে, আমি ভেবে রেখেছি, তোর লেখাটার নাম হবে, "উপলব্যথিত গতি"।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""