এ এক বং. এবং মামুলি মানুষের কাহিনি, যার মধ্যে ছিল বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি, জীবনের প্রতি অদম্য আবাদ্ধা। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই তিনি জানতে পারেন, আয়ু ফুরিয়ে এসেছে। মৃত্যুর সঙ্গে শুরু হয় তাঁর অসম লড়াই। মৃত্যু যখন একটু একটু করে তাঁকে গ্রাস করছে, তখনও তিনি হাত বাড়াতে থাকেন জীবনের দিকে, আঁকড়ে ধরতে চান জীবনকেই।
দুটি স্তরে সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে এই কাহিনি। একটি স্তরে রয়েছে এক দন্ডিত মানুষের। আত্মকথন, যিনি একটু একটু করে সমাজ, সম্পর্ক, পরিবার, জীবন ও বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করে চলেছেন। অন্য স্তরে রয়েছে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, যিনি একজন বিরল মানুষকে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখছেন, নিজের অসহায়তা তীব্র হয়ে উঠেছে তাঁর কাছে, অনুতাপে দগ্ধ হচ্ছে মন। পরিবার ও সমাজের স্বরূপকে একটু একটু করে আবিষ্কার করছেন তিনি।
এই সমান্তরাল দুটি স্তর শেষ পর্যন্ত একই বিন্দুতে গিয়ে মিলিত হয়। আর সেই বিন্দুটি হল, 'মৃত্যু'। এই উপন্যাসের বিষয়, 'মৃত্যু'। লেভতলস্তয়ের 'দি ডেথ অফ ইভান ইলিচ', টমাস মানের 'ডেথ ইন ভেনিস', ইভান বুনিনের 'দি জেন্টলম্যান ফ্রম সান ফ্রান্সিসকো' বা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আরোগ্য নিকেতন' এর মতোই এই আখ্যানের আগাগোড়া ছড়িয়ে আছে মৃত্যু, তাকে বোঝার ও অনুভব করার প্রয়াস, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে তার তাৎপর্য।
কিন্তু এই উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছেন এমন একজন মানুষ যিনি নিজের মৃত্যুদণ্ডকে বহন করে চললেও, প্রতি মুহূর্তে তাকে প্রত্যাখ্যান করে চলেন। এই পৃথিবীতে তিনি একজন বিরল মানুষ, চারপাশের পাপ, কলঙ্ক এবং দূষণের মধ্যেও মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা নিরাসক্ত, আত্মমগ্ন, জীবন-অভিজ্ঞ অথচ শিশুর মতো সরল, আনন্দলীন, স্থিতপ্রজ্ঞ একজন মানুষ, যার অজস্র প্রমাণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিন্তু উজ্জ্বল, অমলিন নানা স্মৃতির মধ্য দিয়ে তিনি ছড়িয়ে দিতে থাকেন। মামুলি জীবনযাপন করলেও তাঁর অসাধারণত্বকে তাই প্রতি মুহূর্তে টের পাওয়া যায়। মৃত্যু তাই সাময়িকভাবে জয়ী হয় ঠিকই, কিন্তু শেষ হাসিটা বরাদ্দ থাকে জীবনের জন্যই।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""