'দুনিয়ার সব থেকে বিপজ্জনক শহর"। ভোর-রাত সাড়ে চারটে। ভোরের আগের তীব্র অন্ধকার। সম্পূর্ণ জনহীন এক রাস্তায় একা আমি। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪। করাচি।
কী করে এমন অবস্থায় পড়লাম। খুব সংক্ষেপে পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে আমরা কলকাতার তেরোজন সাংবাদিক তার আগের দিন রাত্রে পৌঁছেছি করাচি। আর আমি 'আজ' পত্রিকার সম্পাদক আজমল কামালের সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তার কঠোর ঘেরাটোপ ফাঁকি দিয়ে গোপনে পালিয়েছি শহর দেখব বলে, বেলা ১০টা থেকে আমাদের সরকারি অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে। আজমল আমায় মহম্মদ আলি জিন্নাহর সমাধির পাশে দাঁড় করিয়ে তার ছোট্ট গাড়ি নিয়ে চলে গেছে। আমায় নিতে আসবেন এবার অন্য একজন।
এমনতরো পরিস্থিতিতে কেমন সব ভাবনা খেলে যায় মাথার মধ্যে তা-ও মনে আছে। তীর গতিতে একটা বাইক আসছে। এদিকেই। বাইকে করেই তো হামলা চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। দূর থেকে আলো আর শব্দটা বাড়তে বাড়তে হিম, নিশ্চুপ তখনও-পাখি-না-ডাকা রাতকে থরথর করে কাঁপিয়ে ফের মিলিয়ে গেল। বুক কেঁপে ওঠে কয়েক মুহূর্ত। দাঁড়িয়ে আছি তো দাঁড়িয়েই আছি। একটা গাড়ি আসছে। দূর থেকে। বেশ জোরে। এবার গতি কমল। হেডলাইট সোজা আমার ওপর। পকেটে হাত দিয়ে দেখে নিই পাসপোর্টটা সঙ্গে এনেছি তো? পুলিশ কী? যা থাকে কপালে।
সাদা সুজুকি। তেরছাভাবে গাড়িটি রেখেই বেরিয়ে আসেন এক ভদ্রলোক। গাড়ির হেডলাইট জ্বলতে থাকে। একগাল হাসি। প্রৌঢ়। পরিচয় বিনিময় হয়। সয়ীদউদ্দিন। আমার হাত দু'-হাত দিয়ে চেপে ধরেন। আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরি। সেই ছায়া লম্বা হয়ে মাটি দিয়ে বহু দূর গড়িয়ে যায়। করাচির একটি কলেজে উর্দুর অধ্যাপক। কবি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""