মানুষ ও মানবিক সম্পর্ক রাহুল দাশগুপ্তের গল্পগুলির প্রধান উপজীব্য। বাস্তবের খোলস ভেঙে বেরিয়ে চরিত্রেরা বারেবারেই প্রবেশ করেছে রূপকের জগতে। তারা পরস্পরকে প্রশ্ন করে, নিজেদের মধ্যে বিরোধ-সংঘাতে লিপ্ত হয়। বোঝাতে চায়, ক্ষুদ্র স্বার্থ দেখতে গিয়ে একদল মানুষ কীভাবে মানুষের সার্বিক মঙ্গলের সম্ভাবনাকে হত্যা করে চলেছে। অতুলনীয় শ্লেষাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কখনো রাষ্ট্রব্যবস্থা, কখনো মুখোশ পরা মানুষেরা। গল্পসমগ্র-চতুর্থ খণ্ডের ৪১টি গল্পের বিভিন্ন আখ্যানে যেন বহির্জগতের অভিঘাতে স্বগতালাপ করে চলেছে অন্তর্জগতের কোনও স্বর। আর সেই স্পর্শকাতর স্বরের জবানিতে কোনও গল্পে চিত্রিত হয়েছে প্রেমের সংকটে দীর্ণ প্রেমিকের আখ্যান, আবার কোনও গল্প তুলে ধরেছে কণ্টকিত পৃথিবীতে সন্তানের বাসযোগ্যতার জন্য এক পিতার আর্তি। বিভিন্ন গল্পে ঘুরেফিরে এসেছে এক অচেনা অদেখা মায়াবন্দর যেখানে সকলেই যেতে চান। সংকট, অভাববোধ ও তার থেকে মুক্তির জন্য প্রায়ান্ধকার রাস্তায় আলোকবর্তিকা নিয়ে সন্ধান চালিয়ে যায় গল্পের চরিত্রগুলি। সিঁড়ির গোলকধাঁধায় পথ-হারানো মানুষ কিংবা সোয়াশো বছর ধরে লুকিয়ে থাকা লাইটহাউসকে আবিষ্কারের তাড়না- প্রতিটি গল্পেই চেনাজানা মানুষের অপ্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দৃশ্যগোচর হয়ে উঠেছে। গল্পগুলি যেন লেখকেরই একটি গল্পে বর্ণিত সেই দুর্লভ ও খাঁটি ৩১টি শব্দের অক্লান্ত খোঁজ- যে শব্দগুলি নিয়ে লাইব্রেরির এক রহস্যময় বৃদ্ধ অন্তর্ধান করেছিলেন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""