সংকট, অভাববোধ ও সমবেদনা এই তিনের যোগফল রাহুলের গল্পগুলি। এই গল্পগুলিতে সেই জীবনের কথা আছে যা কোনও না কোনওভাবে সংকটগ্রস্ত। আর এই সংকট থেকেই এসেছে অভাববোধ। যে জীবনকে চাই, তাকে না পাওয়ার অভাব। আর যে জীবনকে পাই, তাকে বয়ে বেড়ানোর গ্লানি। শ্লেষ এই লেখাগুলির একটি প্রধান অস্ত্র। কারণ জীবনকে তিনি ভালোবাসেন। মানুষের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় মমতা ও সমবেদনা। মানুষকে তিনি দেখাতে চান, কী গ্লানিকর, ক্লেশাবহ জীবন তারা যাপন করছে। পরস্পরকে প্রতারিত করে কীভাবে মানবতাকে বিপন্ন করে তুলছে। ক্ষুদ্র স্বার্থ দেখতে গিয়ে মানুষের সার্বিক মঙ্গলের সম্ভবনাকে কীভাবে হত্যা করে চলেছে!
মানুষ ও মানবিক সম্পর্কই তাই এই গল্পগুলির প্রধান উপজীব্য। বাস্তবের খোলস ভেঙে বেরিয়ে চরিত্রেরা বারেবারেই প্রবেশ করেছে রূপকের জগতে। তারা পরস্পরকে প্রশ্ন করেছে, নিজেদের মধ্যে বিরোধ-সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। বহির্জগতের অভিঘাতে যেন পাতার পর পাতা ধরে অন্তর্জগতের স্বর স্বগতালাপ করেই চলেছে। আর সেই স্পর্শকাতর স্বরের জবানিতে একের পর এক অপ্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দৃশ্যগোচর হয়ে উঠেছে। রূপকের মোড়কে ঢাকা রাহুল দাশগুপ্তের গল্পগুলি তাই সেই অন্তর্জগতের কাহিনি, যা আস্তরণের পর আস্তরণ সরিয়ে মুখোমুখি হতে চাইছে নিজের বিশ্বাসের, যে বিশ্বাস একদিকে জীবনের অশুভ শক্তিগুলিকে প্রত্যাখ্যান করতে বলে, অন্যদিকে মানবতা ও মঙ্গলকে আহ্বান করে প্রতিষ্ঠা করে যেতে চায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""