'মিস্টার আচেবের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, এক মিনিট কথা বলেই চলে যাব', এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে ফেলল ছেলেটা। সময়টা ১৯৬১, স্থান উগান্ডার কাম্পালা শহর। বছর দুয়েক আগেই প্রকাশিত হয়েছে চিনুয়া আচেবের প্রথম উপন্যাস 'থিংস ফল অ্যাপার্ট'। ম্যাকারেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছেলেটা পড়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। এই তো আমাদের চেনা গল্প, আমাদের কথা ছাপার অক্ষরে। এটাই তো আমরা, যা আমরা আফ্রিকার কালো মানুষরা শুনতে চাই। সাহিত্য মানে কি শুধুই ফিল্ডিং, ডিফো, জেন অস্টেন, এলিয়ট, ডিকেন্স, ডি এইচ লরেন্স? তাঁদের লেখা কোনও অংশে কম নয় ঠিকই, কিন্তু সেখানে আমাদের কথা কোথায়? এই প্রশ্নগুলো ওই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রটিকে কুড়ে কুড়ে খেত, শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করলে নানা অপমান, 'বড্ড বেশি পাকা তো হে, সিলেবাসে যা আছে তাই পড়ো।' আচেবের লেখা পড়ে ছেলেটা নিজেদের গল্প খুঁজে পেয়েছিল। তাই ঠিকানা খুঁজে সোজা হাজির লেখকের কাছে। ম্যাকারেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাহিত্য পত্রিকায় ততদিনে ছেলেটার একটা গল্প প্রকাশিত হয়েছে। সেটা নিয়েই হাজির প্রিয় লেখকের সঙ্গে দেখা করতে। আচেবের সঙ্গে দেখা হল, ছেলেটার গল্প পড়লেন। বললেন, 'লেখা চালিয়ে যাও, তোমার মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। আরও বেশি লেখ, নিজেদের কথা লেখ। দেখবে গোটা বিশ্ব একদিন তোমার লেখা পড়বে।' কিন্তু সেদিন মুখচোরা ছেলেটা বলে উঠতে পারেনি, ইতিমধ্যেই সে একটা উপন্যাস লেখায় হাত দিয়েছে। তাঁর প্রথম উপন্যাস, 'দ্য রিভার বিটুইন'।
কথায় বলে জহুরি ঠিক রত্ন চিনে নেয়, সেদিন চিনুয়া আচেবেও ছেলেটার একটা গল্প পড়েই চিনে নিয়েছিলেন ভবিষ্যতের আফ্রিকার সাহিত্যের অন্যতম সেরা ঔপন্যাসিক এনগুগি ওয়া থিয়োঙ্গোকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পর্যন্ত পৌঁছানো সহজ ছিল না। কেনিয়ার কিয়াম্মু জেলার লিমুরুর কাছাকাছি প্রত্যন্ত কামিরিঘু গ্রামে ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এনগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো। তাঁরা ছিলেন কিকুয়ু গোষ্ঠীর। জন্মের কিছু বছর পর খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করা হয় তাঁকে, নতুন নাম হয় জেমস এনগুগি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""