মহাভারতকে ঐতিহাসিক কোনও আখ্যা না দিলেও মহাকাব্য হিসাবে এ এক রাজনীতি-কুটনীতির এক অসামান্য বিবরণ রয়েছে। যেখানে সাংবাদিকতাও অনবদ্য কাহিনি। এই কাহিনিতে আমাদের জীবন-জীবিকা, সমাজ-সামাজিকতা, মেলে। সেই কত হাজার বছর আগে সঞ্জয়ের বর্ণনায় ভীষ্মের করু-পাণ্ডব যুদ্ধের ঘটনার বিবরণ জানার এবং জানানোর যে প্রক্রিয়া লেখা হয়ে গিয়েছিল, সেখানেই তো সাংবাদিকতার সূত্রপাত বলা যেতে পারে। সেখানেই দরদর্শনের প্রথম কল্পনা বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। সেই প্রথম সাংবাদিকতার ধারণা বলা যেতেই পারে। আর এই মহাভারতেই সাংবাদিকতার সত্য-মিথ্যা, স্বার্থ, অপপ্রচারের ঘটনারও বর্ণনা রয়েছে। মনে আছে, যুধিষ্ঠিরের কাছে দ্রোণাচার্যের সেই তথ্য জানতে চাওয়া? কেন, অন্য সবাইকে ছেড়ে শত্রুপক্ষের হলেও যধিষ্ঠিরের কাছেই তিনি জানতে চেয়েছিলেন? কারণ, যুধিষ্ঠির কখনও মিথ্যা বলেন না। সাংবাদিকতার সেই সত্যি বলার ধারণা কি এখানে থেকেই জন্ম নিয়েছিল? আর তার পরেই সেই সত্যির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল মায়া ও মোহজাল এবং প্রভাবিত হওয়া বা প্রভাবিত করার চেষ্টা? যেখানে সত্যবাদী যুধিষ্ঠির পর্যন্ত নিজেদের স্বার্থে বলেছিলেন, "অশ্বত্থামা হত ইতি গজ'। দ্রোণাচার্যকে যুদ্ধ থেকে সরাতে পারলে, জয় সুনিশ্চিত। তাই এমন অর্ধসত্য তথ্য? ভেবে দেখলে কি মিল পাওয়া যায়? আজকের সংবাদমাধ্যমও সেই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। সত্যিই কি সংবাদমাধ্যম সত্যি কথা বলে? কী কাজ সংবাদমাধ্যমের? কীভাবে কাজ হয় সংবাদমাধ্যমে?
শুধুমাত্র পরীক্ষার পড়া আর পাশ করেই কি শেখা যায় সাংবাদিকতা? দীর্ঘ অভিজ্ঞতার নিরিখে মনে হয়েছিল, পরীক্ষায় পাশের পরেও সংবাদমাধ্যমের ভিতরের কিছু তথ্য হবু সাংবাদিকদের জানা প্রয়োজন। তাই এই বই। পরীক্ষায় পাশ করার জন্য নয়। সাংবাদিকতার সামান্য কিছু প্রাথমিক পাঠ।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""