এই উপন্যাসের ভূমিকা আলাদা করে হয় না। উপন্যাসের প্রথমাংশকেই ভূমিকা হিসাবে ধরা যেতে পারে। আসলে গল্পটি অনেকটা স্মৃতিকথার মতো।
তবে নিজের নয়। বহু মানুষের বিচিত্র অভিজ্ঞতাকে একত্র করে একটা কাহিনি লেখার শখ ছিল বহুদিনের। এ গল্প তেমনই। এখানে ছোটো তিনু অনেক মানুষের মিলিত চরিত্র। তার থেকে কয়েক বছরের বড়ো দাদা-দিদিদের খুনশুটি সেই ইন্টারনেটপূর্ব বা টেলিভিশনপূর্ব জীবনে অন্য এক অনুভূতি নিয়ে আসে। আজকের শিশুরা এইসব ঘটনা উপলব্ধি করতেই পারবে না। তাদের চারপাশে গাছপালা নেই, পুকুর জলা নেই, জমিদার বাড়ির পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপ নেই। তারা একা একা উদ্দেশ্যহীনভাবে হটিতে জানে না। হাঁটতে হাঁটতে নদীর ধারে শ্মশানে পৌঁছে কাপালিকের কুঠি দেখতে পায় না।
অনেকে হয়তো বলবে এসব হয় না। হতে পারে না। কথাটা ভুল নয়। এসব আজকাল আর হয় না। যেমন আজকাল আর গ্রাম বা শহরে পানুচোরের দেখা মেলে না, আশুকুমোররা আর যত্ন নিয়ে বড়োবাড়ির বাচ্চাদের মাটির মূর্তি বানাতে শেখায় না, গাঙ্গুবাইরের মতো বৃহহ্নলা বাচ্চাদের ঘরে ডেকে নারকেল নাড়ু খাওয়ায় না, কণ্ঠিছেঁড়া বৈষ্ণব ব্রজবাউলরা প্রাণখুলে গল্প করতে পারে না। আসলে এসব ঘটনা যে ঘটত, তা-ই বহু লোক ভুলে গেছে। আমারও কি ছাই মনে আছে নাকি? হঠাৎ হঠাৎ এক একটা স্মৃতি জেগে ওঠে। আর লিখে রাখি। সেইসব লিখতে লিখতেই একদিন দেখা গেল দিস্তাখাতা ভরে গেছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""