প্রাচীন বিশ্বে যে বছর খরা হত, ফসল হত না। মানুষ ভবিষ্যৎ-এর কথা ভেবে আশঙ্কিত হয়ে পড়ত, সে বছর একদল চারণ কবি খরার মাঝে গানে গানে স্বপ্ন ফেরি করতেন। বলতেন ভয় পেয়ো না সামনে সুদিন আসছে।
সামনে বৃষ্টি বাদল মেঘ ফসল আসছে। বলতে পারেন আমার এই বই সে রকমই কিছুটা চারণগীতি, চারণকাব্য কিংবা চারণবই। সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিচরন করতে করতে আমার এই চারণবইয়ের লেখাগুলোর জন্ম। কিছু বইয়ের হয়ত ভূমিকা হওয়া উচিৎ নয়। বন্ধুদের আড্ডায় তো আমরা ভূমিকাহীনই থাকি বরাবর? এই বইও সেই নিখাদ আড্ডার খেরো খাতা। বাঙালি রকের আড্ডা ফেলে আসে, তারপর খোঁজ করে হাপিত্যেশ হয়ে।
ধরুন আপনি কলকাতা থেকে ৮০০ বা ১০০০ কিলোমিটার দূরে একটা কাঁচের কিউবিকলে বন্দি। কলকাতা, বিরিয়ানীতে আলু, পাড়ার দোকানের চায়ের আড্ডা, মায়ের হাতের রান্না, ক্লাব, বিকেলের ঠেক, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল, হোর্ডিংয়ে ঢাকা পুজোর কলকাতা, বীরন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নিখাদ গলার স্বর, মিস করে যাচ্ছেন রোজ। তাহলে আপনার জন্য এই বইটা টাইমট্রাভেল হতে পারে। এই বই অনেকটা বিকেলে চায়ের সঙ্গে উত্তর কলকাতার
তেলেভাজা। না খেলে মন কেমন থেকে যায়। কী যেন একটা মিস করা থেকে
যায়।
যে ছেলেমেয়েটা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, কোচিবিহার, কাঁথি বা এরকম কোনও জায়গা থেকে এসে বড় শহরে জুটছে রোজ। এই বই তাদের। এ বই তাদেরই কথা। তাদের লড়াইয়ের কথা। দেশভাগ, ভালোবাসা, নস্টালজিয়া, খেলা, রাজনীতি, মানুষ, মনখারাপ, ধর্ম, সংস্কৃতি, বাঙালিয়ানা,
ভারতীয়ত্ব ও আরও কিছু একসঙ্গে এক ঠোঙায় মিশিয়ে ঘটি গরমের মতো করে পরিবেশন করেছে এই বই। প্রতি পাতায় পরপর এসবের স্বাদ এসে লাগবে পাঠকের মন কিংবা হৃদয়ে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""