আমার শৈশবে পদ্মদিঘি ছিল না। বরং বাড়ির সামনে ছিল কদর্য পূতিগন্ধ নালা, রবিবার সকালে ডোম পাড়ার একটি শ্যামল ছেলে সেই নালির পাঁক কোদালের মতো লোহার মাথা লাগানো খুরচুনি দিয়ে টেনে টেনে নালার দু-পাশে তুলে দিত। মাঝে মাঝে সেই দুর্গন্ধ পাঁকের মধ্যে পেয়ে যেতাম হারানো বল, এদিক-ওদিক তাকিয়ে, মা-ঠাকুমার নজর বাঁচিয়ে দু-আঙুলের ডগায় তুলে নিয়ে ছুড়ে দিতাম বালির ঢিবির উপর।
সে বালির ঢিবি কাদা-পাঁক শুষে নিত সব। সেই শ্যামল ছেলেটির পরিপাটি পোশাক, মার্জিত ব্যবহার ছিল। ডোম পাড়ার মধ্যে দিয়ে শর্টকাট করার সময় একবার দেখেছিলাম সেই ছেলেটি একটা বড়ো গর্তের ভেতর ঢেলে দিচ্ছে হোটেল থেকে পাত কুড়োনো এঁটোকাঁটা আর উদ্বৃত্ত আর সেই গর্তে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সাত-আটটা নোংরা, নালার গন্ধ-পাঁক-মাখা কালো রোমশ শুয়োর। ঠ্যালাঠেলি করে ঘোঁতঘোঁত করে গায়ে, পায়ে মাখামাখি করে চেটে, চুষে নিচ্ছে সব। শ্যামল ছেলেটি যেন তথাগতের মতো নির্বিকার। তার হাসি তবু নির্মল, শ্বেত।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""