অভিধানকে বলা হয় ভাষার দর্পণ। তবে প্রকৃত দর্পণ হতে গেলে অভিধানের নিয়ত-পরিমার্জনা একান্তই প্রয়োজনীয়। কিন্তু এ-কাজ খুব সহজ নয়। অপ্রয়োজনীয় শব্দকে বাতিল করে প্রয়োজনীয় শব্দকে অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সংসদ বাংলা অভিধান আজ বাঙালির একটি নিতা-ব্যবহার্য অভিধান। কাজেই সেই অভিধানকে যতদুর সম্ভব আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে। গত দুই দশকে অভিধানের সম্পাদক প্রচুর চিঠি পেয়েছেন। নানা পরামর্শ ছিল সেইসব পত্রপ্রেরকের। সেসব পরামর্শের কিছু কিছু অবশ্যই
গ্রহণীয়। আমরা গ্রহণও করেছি সেসব। এই অভিধানের পঞ্চম সংস্করণেই শুরু হয়েছিল শব্দের ব্যাখ্যামূলক অর্থ দেবার কাজ। সে শুধু শুরু। এই ষষ্ঠ সংস্করণে সে কাজ আরও ব্যাপকতা লাভ করেছে। অভিযানের
পরিমার্জনা নানা রকমের-ভ্রম সংশোধন, নতুন শব্দের সংযোজন ইত্যাদি। এছাড়া আছে বানানের প্রসঙ্গ। বাংলা বানানের সংস্কার হয়ে এসেছে কয়েক দশক ধরে। আমরা মূলত পশ্চিমবঙ্গা বাংলা আকাদেমি ও সাহিত্য সংসদের বানাননীতিই অনুসরণ করার পক্ষপাতী। কয়েকটি ক্ষেত্রে অবশ্য এই দুই সংস্থার মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। সেসব ক্ষেত্রে সংসদের গৃহীত নীতিই অভিধানে দেখতে পাওয়া যাবে। যেমন ধরা যাক 'কোশ' শব্দটি। এখন কোশ শব্দে তালব্য-শ প্রায় সর্বত্র গৃহীত। কিন্তু সংসদে কেউ কেউ মূর্ধন্য-ষ রাখতে চান-কোষ। আবার এই সম্পাদকের মতো কেউ কেউ তালব্য-শ-কোশ। অগত্যা আমরা দুটি বানানই রেখেছি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""