বাংলা সাহিত্যের মতো অসমিয়া সাহিত্যের প্রাথমিক আরম্ভ পদ্য বা কবিতা হলেও পরবর্তীকালে গদ্য সাহিত্য সৃষ্টির কাজ আরম্ভ হয় অনেক পরে। উনবিংশ শতকে এর পথ-চলা। তবে ছোটোগল্পের জগতে পা রাখা শুরু আরো পরে, লক্ষ্মীকান্ত বেজবডুয়ার হাত ধরে ১৮৮৯ সালে 'জোনাকি' পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পের মাধ্যমে। এর আগে সেইভাবে কোনো ছোটোগল্পের খবর অসমের সাহিত্যে পাওয়া যায় না। তবে বাংলা সাহিত্যে ছোটোগল্প যেমন রবীন্দ্রনাথের আগে কিছু লেখা হলেও রবীন্দ্র সমসাময়িক গল্পকারদের নামই বেশি উচ্চারিত হয়, তেমনই অহোম সাহিত্যে ছোটোগল্পের বিকাশ হয় উনিশ শতকের শেষভাগে। লক্ষ্মীকান্ত বেজবডুয়ার পাশাপাশি আরো বেশ কিছু লেখককে আমরা পাই এই সময়ে। পরবর্তীতে বিশ শতকে এই শাখাটি পল্লবিত হয়ে একটি বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে সেখানকার অসংখ্য নামী গদ্যকারের হাত ধরে। এঁদের মধ্যে জ্যোতিপ্রকাশ আগরওয়ালা, বিরিঞ্চি বড়ুয়া, অতুল হাজারিকা, নলিনী দেবী, মফিজুদ্দিন হাজারিকা, নবকান্ত বড়য়া, বীরেন্দ্র ভট্টাচার্য, মামনি রাইসম গোস্বামী, হোমেন বরগোহাই, ভবেন্দ্রনাথ শইকিয়া, সঈদ আব্দুল মালিক, নিরুপমা বরগোহাঁই, কাঞ্চন বড়য়া-সহ বেশ কিছু স্বনামধন্য ছোটোগল্পকারদের নাম পাওয়া যায়। এই শাখা ক্রমে এতটাই বিকশিত হয় যে, আজ অসমিয়া ছোটোগল্প ভারতের অন্যতম সেরা ছোটোগল্পের আসরে নিজস্ব স্থান করে নিয়েছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""