দ্বাদশ শতাব্দীতে মধ্য এশিয়ার প্রায় পুরোটাই ছিল মঙ্গোলিয়ার অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণে চীনের সীমান্ত, উত্তরে সাইবেরীয় তুন্দ্রা, পশ্চিমে আলতাই পর্বতমালার বেড়, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর। অগুনতি ছোটো ছোটো যুদ্ধপ্রিয় যাযাবর গোষ্ঠী অধ্যুষিত দেশ মঙ্গোলিয়া। কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে অপর কোনো গোষ্ঠীর সদ্ভাব নেই। সকলেরই লক্ষ্য অপর গোষ্ঠীতে হানা দিয়ে তাদের গবাদি পশু ও নারী হরণ।
এই বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে শতাব্দীর মধ্যভাগ পার করে এক স্বল্পখ্যাত গোষ্ঠীপ্রধানের ঘরে জন্ম নেয় তেমুজিন,' পরবর্তী জীবনে যে-শিশু প্রসিদ্ধি লাভকরেন চিংগিস খান নামে। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে অপরিচিত, অশ্রুত মঙ্গোলিয়াকে বিশ্বশক্তির পর্যায়ে উত্তরণের কর্ণধার।
বাল্যকালে পিতৃ বিয়োগ, সৎ দাদার অত্যাচার, সার্বিক দারিদ্র ও চারিপাশে শত্রু বেষ্টনীর মধ্যে থেকে নিজ বুদ্ধিবলে তেমুজিন নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে মঙ্গোলিয়ার সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় জননায়ক রূপে। ক্রমে সেই জনপ্রিয়তা তেমুজিনকে এনে দেয় চরম সার্থকতা। মাত্র পচিশ বছরেরও কম সময়ে উনি প্রতিষ্ঠা করেন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য। এই চরম সার্থকতা লাভের পরেও তিনি তাঁর যাযাবর জীবনযাত্রা ত্যাগ করেননি। আজীবন কেটেছে অস্থায়ী তাঁবুতে। খেয়েছেন যা আপামর মঙ্গলীয়রা খায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""