সন্ন্যাসীর জন্য সংসার নয়, সাংসারিক উত্থান-পতনে তাঁর কিছু যায় আসেনা। এমন ধারণায় করা হয়ে থাকে। সমাজের প্রায় সর্বস্তরে ব্যাপ্ত এই ধারণাটি নিতান্ত অমূলক নয়। সম্ ও ন্যাস এর সন্ধিতে সন্ন্যাস শব্দের উৎপত্তি। যার মূল অর্থ হল সর্বত্যাগী। তবে এই সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী মাত্রই জাগতিক সকলকিছু থেকে বিরত থাকবেন, এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রায় বারো শতাব্দী ব্যাপী চলা বৈদেশিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে, সনাতন হিন্দু সমাজ বিভিন্নভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। বীররসে পূর্ণ অসংখ্য প্রতিরোধের ইতিহাসে "সন্ন্যাসী বিদ্রোহ" এক উজ্জ্বল নাম। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাস "আনন্দমঠ" এবং "দেবী চৌধুরানী" এই সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতেই রচিত হয়েছিল। তবে এতেই শেষ নয়। ভারতীয় সাধু, সন্ন্যাসীদের বীরগাথা ভগবান পরশুরামের সময় থেকে ব্রিটিশ শাসনামল পর্যন্ত প্রবহমান। হিন্দুধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার সময় আদিগুরু শঙ্করাচার্য তৈরী করে যান নাগা সন্ন্যাসীদের আখড়া। সর্বত্যাগী এই নাগা সন্ন্যাসীরা নির্জনে তপস্যায় মগ্ন থাকতেন ঠিকই। তথাপি সমাজ ও ধর্মকে রক্ষা করার জন্য এঁরা বারংবার হাতে তুলে নিয়েছেন অস্ত্র। রাজস্থানের রাজপুত ইতিহাস থেকে জানা যায় মহারাণা প্রতাপ যখন মুঘল শাসক আকবরের বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই করেন, সেই লড়াইয়ে নাগা সন্ন্যাসীরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাজস্থানের চাপলি তালাব ও রণকড়া ঘাটের মধ্যে সংঘটিত এই যুদ্ধে মুঘলেরা পরাজিত হয়। চাপলি তালাবে আজও বীর নাগা সন্ন্যাসীদের সমাধি ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়। পরবর্তীতে ধর্মান্ধ মুঘল শাসক ঔরঙ্গজেব
১৬৬৬ সালে হরিদ্বার কুম্ভ আক্রমণ করলে অপরাজেয় নাগারা আবারও মুঘলদের প্রতিহত করেন। আহমেদ আলি বঙ্গ প্রয়াগরাজ কুম্ভ আক্রমণ করলে সন্ত রাজেন্দ্র গিরির নেতৃত্বে আবারও নাগা সন্নাসীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং কুম্ভ রক্ষা পায়। ঔরঙ্গজেবের মুঘলসেনা কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ধ্বংস করতে এলে নাগা সন্ন্যাসীদের সঙ্গে মুঘলের ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ হয়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""