প্রত্যেকটা মানুষ সারাটা জীবন ধরে নিজের অজান্তেই মনের চারপাশে একটা একটা করে ইট গেঁথে দেওয়াল তোলে। তারপর সেই দেওয়ালের ভেতর বন্দি হয়ে কাটিয়ে দেয় গোটা একটা জীবন। এই উপন্যাসে রিখিয়া, ডাক্তার সিদ্ধার্থ মিত্র, সুপ্রিয়া, চাঁপা, দীপ্ত-কেউই এর ব্যতিক্রম নয়। তারপর একদিন পরিস্থিতি পরিবেশ যখন চারপাশে সত্যিকারের দেওয়াল তুলে দেয়, তখন শুরু হয় আসল যুদ্ধ । অনুভূতির গোড়ায় টান পড়ে যখন, মানুষ অবহেলায় জট পাকিয়ে যাওয়া সম্পর্কগুলোর গিঠ ছাড়াতে বসে। ঠিক-ভুলের হিসেব নিক্তিতে মাপতে যাওয়া তখন বৃথা অপচয় বলে মনে হয়। বরং একবার শেষ চেষ্টা করতে ইচ্ছে হয়, যদি জট খুলে জীবনটা আর-একবার গুছিয়ে নেওয়া যায়! এই উপন্যাসের চরিত্ররা স্বরচিত কারাগারে বন্দি করেছে নিজেদের। আবার একসময় তা ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করেছে। তারা সেটা পারবে কি না, নাকি তলিয়ে যাবে অন্ধকারে, সেই কাহিনিই বলবে এই উপন্যাস। স্মিতার মতো চরিত্ররা জীবনকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। অনন্তস্যারের, মতো লোকেরাও থাকে আমাদের আশপাশেই। সব মিলিয়ে 'ভাঙনভোর' উপন্যাস ছোটো ছোটো খণ্ডচিত্রের এক কোলাজ, যা মনের চারপাশের দেওয়াল ভাঙার লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""