লেখক বলতে যে সম্মানিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর কথা আমরা বুঝি, তাদের সঙ্গে দূর দূরান্ত পর্যন্ত আমার সম্পর্কও নেই, সেই যোগ্যতাও নেই। তবুও বামপন্থা নিয়ে লেখার ইচ্ছা দীর্ঘদিনের। কিন্তু লিখব বললেই তো লেখা হয়ে ওঠেনা। স্বাভাবিক সাংসারিক জীবনে এত রকমের চাপ ও সাংসারিক বিভিন্ন কাজ থাকে যে তাতেই আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরা আটকে থেকে যায় এবং মনের ইচ্ছাগুলি প্রয়োজনের কাছে গোহারা হেরে যায়। ৯০-র দশকে যখন বামপন্থা এই বাংলায় অপ্রতিরোধ্য, নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী তখন ভাগ্যগুণে বা দোষে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মলাভ করি। আজ যখন জীবনের পড়ন্ত বিকালে এসে পৌঁছেছি, তখন মনে হয় আমার দেখা পশ্চিমবঙ্গে, বায়ুমন্ডলে উপস্থিত অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাসগুলি পর্যন্ত আলিমুদ্দিন থেকে পাওয়া ডিক্রি অনুসারেই বাতাসে মিশ্রিত হতে পারতো। সেই স্কুল জীবন থেকে বামপন্থাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, উপলব্ধি করেছি এবং তার বিষাক্ত, কদর্য রূপের প্রকাশ দেখেছি। বারবার মনে হতো জীবন দিয়ে যে উপলব্ধি এসেছে বামপন্থার বিষয়ে সেই উপলব্ধি শুধু নিজের মধ্যে না রেখে বাকি সকলকে জানানো একান্ত প্রয়োজন। এমনও নয় যে বামপন্থার এই ঘৃণ্য উপলব্ধি শুধু আমার একারই হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ বামপন্থার অত্যাচার, অনাচার, উৎপীড়নের শিকার, তবুও বামপন্থার স্বরূপ সন্ধান আজও সার্বিকভাবে হয়নি। অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে বামপন্থার আপাত আকর্ষণ মানুষের মনকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে। সেই আকর্ষণের টানেই ছুটে যাওয়া মানুষ, নিজের অজান্তেই একটি মস্ত বড় ও সর্বাধিক বিপদজনক আইডিওলজির গড্ডালিকা প্রবাহে আটকে পরে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""