রূপভেদাঃ প্রমাণানি ভাবলাবণ্যযোজনম্।
সাদৃশ্যং বর্ণিকাভঙ্গ ইতি চিত্রং ষড়ঙ্গকম্।।
বাৎস্যায়ন-কামসূত্রের প্রথম অধিকরণ তৃতীয় অধ্যায়ের টীকায় যশোধর পণ্ডিত আলেখ্যের এই ছয় অঙ্গ নির্দেশ করিয়াছেন।
যথা-প্রথম রূপভেদ, দ্বিতীয় প্রমাণ, তৃতীয় ভাব, চতুর্থ লাবণ্যযোজন, পঞ্চম সাদৃশ্য, ষষ্ঠ বর্ণিকাভঙ্গ।
কামসূত্রের রচনাকাল কাহারো মতে খৃস্টপূর্ব ৬৭১, কাহারো মতে বা খৃষ্টপূর্ব ৩১২, আবার কাহারো মতে ২০০ খৃষ্ট-অব্দ বৈ নয়। যশোধর পণ্ডিত কামসূত্রের টীকা রচনা করেন ১১ শত হইতে ১২ শত খৃস্ট-অব্দের মধ্যে।
যে-সকল প্রাচীন ও বৃহত্তর শাস্ত্রের সার সংকলন করিয়া বাৎস্যায়ন কামসূত্র রচনা করিয়াছিলেন সে-সকল শাস্ত্র এখন লুপ্ত। সুতরাং বাৎস্যায়নকথিত পূর্বশাস্ত্রসমূহে-যেমন বাভ্রব্যের সূত্রার্থ ও আগম ইত্যাদিতে-এই ষড়ঙ্গের প্রয়োগ কিরুপ বর্ণিত হইয়াছিল, তাহা জানিবার উপায় নাই। কামসুত্রের টীকাকার যশোধর পণ্ডিতও কোন প্রাচীন টীকা অবলম্বন করিয়া নিজের জয়মঙ্গল টীকা রচনা করিয়া গিয়াছেন তাহা উল্লেখ করেন নাই। কাজেই চিত্রে এই ষড়ঙ্গ যে কত প্রাচীনকাল হইতে ভারতে প্রচলিত ছিল তাহা বলা কঠিন। তবে কামসূত্রে যখন চিত্রকলার উল্লেখ আছে তখন বাৎস্যায়নের পূর্ব হইতেই চিত্রবিদ্যার সহিত চিত্রের ষড়ঙ্গও যে এ দেশে প্রচলিত ছিল এটা সহজেই মনে হয়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""