পশু, পাখি, মাছ এরা যে বোধ দিয়ে পৃথিবীকে অনুভব করে সেই বোধকে পেছনে ফেলে রেখে অন্যভাবে প্রকৃতিকে দেখার চেষ্টা করেছে মানুষ। অথচ জৈবিক ভাবে মস্তিষ্ক উন্নত হতে কয়েক হাজার বছর দোর, ঠিক মতো ভাষার উদ্ভব হয়নি।
মানুষ প্রকৃতির সুর, পাখির ডাক, নদীর শব্দকে নকল করতে শুরু করে। আগুনকে চিরকালই প্রকৃতির যাবতীয় প্রাণী ভয় পেতো। আগুনের ব্যবহার শেখার পর সেই ভয় পরিণত হয় সম্মানে। আগুন নিয়ে তাই পৃথিবীর নানা সভ্যতার পুরাণে নানা রকম গল্প আছে।
গ্রীক সভ্যতায় স্বর্গ থেকে প্রমিথিউসের আগুন চুরি করে আনার এবং জিউসের তাকে শান্তি দেওয়ার গল্প তো বিখ্যাত।
নানা রকম প্রাচীন জাতির কথা পাওয়া যারা অগ্নি উপাসক ছিলো। তাদের মধ্যে ইরাণীয়, পার্শ্বি এবং ভারতবর্ষের আর্যরাও ছিলো। কিন্তু আকাশ থেকে ছিটকে আসা প্রবল আগুনের ব্যাখ্যা পেতে তখনো অনেক দেরি। উল্কাপাত, বজ্রপাতের মতো ঘটনাকে ঈশ্বরের ইঙ্গিত ছাড়া অন্য কিছু ভাবা সম্ভব ছিলো না সে যুগের মানুষের পক্ষে
প্রস্তর যুগের আশেপাশে মানুষের গড় আয়ু ছিলো আন্দাজ ২৪ বছর। তবু যারা রোগের হাত থেকে, হিংস্র প্রাণীর হাত থেকে এবং মানুষের হাত থেকে বেঁচে যেতো, তারা সূর্যগ্রহনের মতো ঘটনা চাক্ষুস করতো।
আকারে কয়েক লক্ষ গুণ ছোটো চাঁদ সূর্যকে এমন ভাবে ঢেকে দ্যায় যেন মনে হয় দুটো চাকতি পরস্পর মিলে গেছে। এই মহাজাগতিক ধাঁধার খুব স্পষ্ট উত্তর আজও মানুষের কাছে নেই। প্রকৃতিরই অংশ হল নদী, অরণ্য। যেখানে নিশ্বাস নিয়ে, জল নিয়ে, ফল খেয়ে মানুষের বেঁচে থাকা। এই দ্বৈত সত্তার কথা প্রথম কার মনে এসেছিলো কে জানে। প্রাচীন যুগ থেকে কঠোর-কোমল এই প্রকৃতিকে মানুষ মা কিংবা প্রেয়সীর সমান্তরাল কল্পনা করেছে।
অনুমান করা হয় খাদ্য সংগ্রাহক মানুষ খাদ্য উৎপাদক হওয়ার পর থেকেই গল্প, সঙ্গীত, নৃত্যের জন্ম হয়। তার কারণ মানুষের হাতে উদ্বৃত্ত সময়। কিন্তু এমন অনুমান বোধহয় সম্পূর্ণ সঙ্গত নয়। কারণ প্রাচীন গল্পগাথা, গান ইত্যাদির যেটুকু নজির পাওয়া যায় তার প্রধান বিষয় ছিলো শিকার কাহিনী।
মস্তিষ্কের গঠন ধীরে ধীরে উন্নত হবার সঙ্গে সঙ্গে ভয়ের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে যা প্রবল ভাবে তৈরি হয় তা হল কল্পনাশক্তি এবং কৌতুহল। ধীরে ধীরে রূপকথা জন্ম নেয়, জন্ম নেয় দেব-দেবীদের কাহিনী ও শক্তি, কাল্পনিক প্রাণীদের ঘিরে বিভিন্ন ধরনের কিংবদন্তি।
মানুষের 'সম্মিলিত স্মৃতিতে' যা একবার স্থান পায় তা বহুদিন ধরে বাহিত হয়ে চলে। হয়তো খাদ্য সংগ্রাহক পর্বের শেষ দিকের এই গল্পগুলোই পরবর্তী যুগে চলে এসেছে।
তুষারপাত কিংবা বর্ষার সময়ে অসহায় গুহাবাসী মানুষের একমাত্র সহায় ছিলো এইসব শিকারের কাহিনী ও দেবতাদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানানো। পৃথিবীর কোনো দেশে ঈশ্বরের আরাধনা
গদ্যভাষায় হয়নি। এরা বহত্তর শব্দি বৃহত্তর চেতনার কাছে মানষ
সাধারণ সাহিত্যের ইতিহাসে দেখি গদ্যভাষার জন্ম হবার আগে মধ্যযুগের শেষ পর্যন্ত ছন্দ ও সুরের একাজর আধিপতা। প্রতিমন্ত্র ছাড়াও রাজাদের বিজয়গাথা, মঙ্গল কাব্য, রামায়ণ, মহাভারত, পাশ্চাত্যে চারণকারি বা মিনস্ট্রাল দের পরিবেশিত গান সবই ছিলো পারফর্মিং আর্টসের অন্তর্গত। এইসব গল্প, বর্ণনা, ছবিতে কিছু সাধা
মোটিফ লক্ষ্য করা যায় যেমন সাপ, নদী, উর্বরা শক্তি, নারী, প্রবাহ। বাজা, বস্ত্র, শক্তি, রাজদন্ড। আমরা যা দেখি, শুনি, স্পর্শ করি তার মধ্যেই মানুষী চেতনা, বুদ্ধি আরোপ করতে চাই। জ্ঞান এবং বাস্তববোধ সম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে অবশ্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ঘরের শিশুটির দিকে তাকালে সহজেই এর সত্যতা প্রমাণ হবে। হবে। শৈশব, যাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন মানবজাতির আদি অবস্থা। বাচ্চারা মাটি, জল, হাওয়া, আগুন, গাছের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, কথা বলে। বহু দর্শনে বিশ্বাস করা ধর্ম বা জাতি নির্বিশেষে খুব উচ্চমার্গের শিল্পী এবং সাধকরা নাকি শিশু মনের অধিকারী হন। ফলে স্বাভাবিক বোধসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তারা প্রকৃতির অনেক ধরনের অনুভূতি লাভ করেন। যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না।
যাই হোক, বাংলার 'নদীমাতৃক' শব্দটির কোনো যথাযথ ইংরেজি শব্দরূপ অনেক খুঁজেও পাওয়া গেলো না। সবচেয়ে কাছাকাছি যা পাওয়া যায় সেটা হল 'River centric', এই শব্দে তর্জমার কাজ হয়ে যায় ঠিকই কিন্তু মায়ের স্নেহভাব থাকে না। বৈদিক যুগে সরস্বতী ছিলেন একই সঙ্গে নদী এবং ভাষার দেবী। পরবর্তী যুগে তিনি চৌষট্টি কলা এবং সর্বপ্রকার বিদ্যা, জ্ঞানের দেবীতে পরিণত হয়েছেন। জাপানের শিন্টো ধর্মে সরস্বতী গৃহীত হয়েছেন 'বেনজাইতেন' নামে। ড্রাগন, সাপ, সমৃদ্ধি, রোগব্যাধি এবং থেকে রক্ষা করেন 'বেনজাইতেন'। ভারতবর্ষে যেমন সরস্বতীর হাতে বীণা থাকে ঠিক তেমনি বেনজাইতেনের হাতে থাকে 'বিওয়া' বলে একটা তার যন্ত্র। এই এতো নিবিড় ভাবে হয়েছে যে গ্রহণ বেনজাইতেনের আরেক নাম Sarasabattei ( 羅薩伐底) এবং মন্ত্র 'On Sorasobateiei sowaka' (Om Sarasvatyai svaha) সরস্বতীর যুক্তক্ষরকে ভেঙে উচ্চারণ করলে হয় সরসবতী। অতঃপর দেবীর উদ্ভবের পেছনে সম্ভব। ভারতবর্ষ থেকে চিন হয়ে দেবী পৌঁছেছেন জাপানে এমনটাই মনে করা হয়। তান্ত্রিক সরস্বতী বা দুর্গার মতো বেনজাইতেনের অষ্টভূজ মূর্তিও আছে। যেখানে ধনুক, তরোয়াল, ত্রিশূল, ভক্তদের ইচ্ছাপূরণকারী চিন্তামণী, চক্র, বজ্র এবং কুঠার দেখা যায়। এই রূপকে মা দুর্গার অষ্টভুজ প্রতিমার সমান্তরাল মনে করা হয়। আবার দুর্গার অপর নাম শাকম্ভরী। তিনি শস্যদেবী, ইংরেজিতে যাকে বলে 'Vegetation Deity'. নদীমাতৃক শিকড় সহজেই অনুমান করা
গোড়াতেই বলছিলাম বজ্র বা 'আকাশের পলি অগ্নি'র কথা। পৃথিবীর তিন প্রান্তে অবস্থিত ডি জাতির সভ্যতায় একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য যায়। জাতি গুলো হল নর্ডিক, আর্য এবং রোম নর্ডিক প্যান্থিয়ন বা দেবলোকে প্রাথমিক দেবতাদের রাজা বা অলফাদার হলেন ওডিন
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""