ইতিহাস নির্ভর গল্পের কিছু দায়িত্ব থাকে। ইতিহাসকে গল্পের প্রয়োজনে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা যেতেই পারে। কিন্তু বিকৃত করা যায় না। ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা কোনো বিকারগ্রস্ত মানুষের কাজ। অথচ আমাদের দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সাথে দেশ ভাগের করুণ কাহিনী এমন জড়িয়ে আছে যে ইতিহাস ব্যাখ্যা ও বিকৃতকরণের মধ্যে ব্যবধান ধরে রাখা খুবই কষ্টকর। পদে পদে পদস্খলন হতেই পারে। বিশেষ করে লেখকের অবস্থার কথা মাথায় থাকলে, পাঠক অবশ্য সেই অবাঞ্ছিত ত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন। দেশ ভাগের তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে ১৯৪৬ সালের শৈশবের দিনগুলি আর তারই ফলশ্রুতি হিসেবে শৈশবেই মাতৃবিয়োগ, সে তো ভোলার কথা নয়। দেশ ভাগের যন্ত্রণার মধ্যে থেকেই লেখকের সেই অভিজ্ঞতা।
তারপর ভাষা আন্দোলনের হাত ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথী হয়ে বাংলা দেশের কোটি জনতার রেফিউজির জীবন-যন্ত্রণা অনুধাবন করতে করতে যদি সেই ভারতীয় লেখকের মনে হয়, স্বাধীনতা এই দুস্থ, নিপীড়িত, অসহায়, ছিন্নমূল মানুষগুলোকে কি দিল, তবে ইতিহাসকে প্রশ্ন করার মধ্যে ইতিহাস বিকৃতিকরণ না মনে করলেই, লেখকের বাধিত থাকার কথা। সবাইকেই কিছু না কিছু এই জীবনে সয়ে নিতে হয়, ছাড় দিতে হয়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""