ছ'-এ ছড়া। 'ছ'-এ ছেলেবেলা। মিলেমিশে একাকার। কখনও মায়ের মুখে শোনা ঘুমপাড়ানি বা ছেলেভুলোনো ছড়া, আবার কখনও ঠাকুমা-দিদিমাদের মুখে মুখে অনর্গল কেটে চলা ছড়া। এ শুনেই কেটেছে শৈশব।
পাল্টালো দিন। হারিয়ে গেল ছড়া। Humpty Dumpty... বা Baa baa black sheep-এর তাড়ায় 'ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি' বা 'নোটন নোটন পায়রাগুলি' কোথায় পালাল কে জানে?
তবে সাহিত্যের ইতিহাসের পাতায় ছড়ার কিন্তু একটা স্থায়ী আসন রয়েছে। ছোটবেলার সেইসব ছেলেভুলোনো ছড়ার মধ্যে ছিল কত ইতিহাসের মিশেল। ছিল কত সামাজিক চিত্র। বড় হয়ে বুঝেছি সেসব। শৈশবে কে আর তা নিয়ে মাথা ঘামায়? মুখে মুখে অমর হয়ে গেল সেইসব ছড়া। কিন্তু ছড়াকারদের মনে রাখল ক'জন? বহুদিন পর হাতে এসে পড়ল দুটো ছড়ার বই। ছেলেবেলার হারিয়ে যাওয়া মায়ের আঁচলের সেই গন্ধটা আবার এসে লাগলো নাকে।
বই দুটো হল অধ্যাপক ডঃ বিজিত ঘোষের 'ইচ্ছে-খুশি' আর 'এলাটিং বেলাটিং
সই লো'। সঠিক অর্থে লিমেরিকের বই। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পাঁচ পঙ্ক্তির ছড়া। কীভাবে যেন ছেলেবেলাকে হঠাৎই ফিরে পেলাম 'ইচ্ছে-খুশি' আর 'এলাটিং বেলাটিং সই লো'-র পাতায় পাতায়। যেন মনে হল ছোটবেলার দিনগুলো সিনেমার মতো চোখের সামনে ভেসে উঠছে। রূপকথার গল্প থেকে ভূতের ভয়। আচার চুরি থেকে মিষ্টির লোভে বিজয়া করতে যাওয়া। মায়ের চোখ লাগলেই দুপুরে চুপিচুপি পালানো। লোডশেডিংয়ের উৎপাত। ঝগড়াঝাঁটি-খুনসুটি। ছেলেবেলার হরেক রকম খেলা, যেগুলো আজ লুপ্তপ্রায় আর তার সঙ্গে সম্বল টিভি-র দুটি মাত্র চ্যানেল, আর তাতে চলা বিখ্যাত কিছু বাংলা সিরিয়ালের প্রসঙ্গ-সবই নিয়ে যায় কোন সুদূর অতীতে। হারিয়ে যাওয়া দিন, হারিয়ে যাওয়া মানুষজনের স্মৃতি উস্কে দেন ছড়াকার বিজিত ঘোষ।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""