আত্মাজান বা ব্রহ্মজ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে কামের ভূমিকা সাধারণত নেতিবাচকই থাকে। কাম ষড়রিপুর অন্যতম প্রথম রিপু। তাই সাধারণত ধর্মচর্চায় কামাদি বৃত্তিকে বর্জন করার কথাই বলা হয়। কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে যে বৃত্তি জীবপ্রকৃতির সহজাত, সহস্র চেষ্টা সত্ত্বেও তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না। বরং বলপূর্বক অবদমনের পরিণামস্বরূপ অতৃপ্ত কাম আরও বীভৎস আর বিকৃত রূপ ধারণ করে আত্মপ্রকাশ করে। তাই তন্ত্রোক্ত সাবনমার্গে কামত্যাগ নয়, কামজয়ের কথা বলা হয়েছে। শক্তিসাধনা কেন্দ্রিক তন্ত্রের পথে কোনও কিছুই বজ্রনিীয় নয়, যেহেতু জগতের প্রতিটি বস্তুই এক অখণ্ড আদ্যাশক্তির ক্ষুরণ। বিশ্বের পরমকারণ যে পরমাশক্তি, তাঁর বিশ্বময় মহাবিলাস সংঘটিত হয় অনন্ত ইচ্ছা, জ্ঞান ও ক্রিয়া শক্তি রূপে। এই মহীয়সী ইচ্ছাশক্তিই উমা কুমারী'। তিনি যখন ক্ষুদ্র জীবদেহের মধ্যে সংকুচিত আকারে ক্রিয়াশীল, তখন তিনিই হন কাম। কামকে ত্যাগ করা মানে তাঁকেই ত্যাগ করা। তাই বামমাগীয় পঞ্চমকার সাধনায় কামকে ত্যাগ না করে কুণ্ডলিনী যোগ দ্বারা তার রূপান্তর ঘটানো হয় শিবশক্তির আত্মরতিময় দিব্য অদ্বৈত মৈথুনে। তখন কাম আর রিপু থাকে না, সে
হয়ে ওঠে ব্রহ্মের স্বরূপভূত আনন্দের সারতত্ত্ব অনন্ত স্বাতন্ত্র্যশক্তি, শিবস্বরূপতার অনন্ত বৈভব, চিদানন্দময়ী সৌন্দর্যলহরী যার অপর নাম 'মহাত্রিপুরসুন্দরী'।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""