রানির মতই যোগমায়াও ছোট থেকেই পাখি হয়ে যেতে পারতেন, যে কোনো রাস্তার গোলকধাঁধায় কখনো হারিয়ে যেতেন না।
পৌরসভায় 'সরণী সংরক্ষণ ও সংযোজন' বিভাগে কাজ পেলেন। সেখানেও যোগমায়া সারাদিন ম্যাপ ঘাঁটতে ঘাঁটতে সহ কর্মচারীদের কাছে হয়ে উঠলেন জলজ্যান্ত, রক্তমাংসের গুগুল ম্যাপ। ডিপার্টমেন্ট ডিজিটাল হবার সার্কুলার এল। যোগমায়া টিকে গেলেন কারণ অ্যানালগ মানচিত্রের ঢিপি, রেজিস্টার ফেলে দেওয়ার মর্মে কোনো সার্কুলার এল না। ক্যাবিনেটের ধুলোয় যোগমায়া খুঁজে বার করলেন এক হারিয়ে যাওয়া রাস্তা দস্তুরিখানা স্ট্রিট।
রিটায়ার করার পর যোগমায়া হালদার সেখানে হারিয়ে গেলেন।
অথবা গার্লস স্কুলের দিদিমণির পদ থেকে রিটায়ার করার পর বিখ্যাত প্রবাসী অধ্যাপকের প্রাইভেট সেক্রেটারির কাজ করা সনকা সেন। অনিদ্রার সমস্যা তার কোনোদিন ছিল না। সনকা বিশ্বাস করতেন কেরামতিটা তার ঝকঝকে বিবেকের। এক ঘটনার পর তার চোখ থেকে ঘুম উড়ে গেল। ভোরের দিকে চোখ লেগে এলে শুরু হত স্বপ্নটা। যারা বলে স্বপ্ন সাদাকালো, ভুল বলে। কারণ সনকার স্বপ্নে শেষ নভেম্বরের বিকেল বিষণ্ণ নীল, মাঠ গাঢ় সবুজ, মাঠচেরা রাস্তার পিচ কুচকুচে কালো। সে কালোর ওপর দিয়ে সনকা হাঁটছেন...
অথবা পার্থদাকে বিয়ে করে বড়বাজারের বর্মন প্যালেসে আটকে যাওয়া মহুয়া আর তার পৃথিবী ঘুরে বেড়ানো সই রুমেলা। একদিন মহুয়া অন্ধকার দেওয়ালে খুঁজে পায় আধখোলা দরজা, সেখান দিয়ে গেলে সিঁড়ি, বারান্দা পেরিয়ে লুকোনো সিংহাসন। লাল ভেলভেটের গদি, হাতল ও পায়ায় সিংহের থাবা, জোড়া সাপের মুকুট। মহুয়া বুঝতে পারে রোজ হারাতে হারাতে তাদের কোন জিনিসটা হারিয়ে গেছে। ভয়।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""