ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ। মল্লভূমে রাজা হাম্বিরমল্ল। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হচ্ছে রাসমঞ্চ, ঘরে ঘরে প্রচলন হচ্ছে দশাবতার তাস খেলা, দুর্গসংলগ্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে অম্বুরি তামাক। রাজধানী বিষ্ণুপুরের পথে হঠাৎ দেখা যাচ্ছে মুঘল পোশাক-পরিহিত রাজপুরুষ। এইসব তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাঠ করতে করতে অনুসন্ধিৎসু হয়ে পড়ি মল্লভূমের ইতিহাসে। অধুনা বাঁকুড়া অঞ্চলের ইতিহাস বিভিন্ন ইতিহাস বইতে যা পাই তার থেকেও বেশি জানার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়ে যায় শ্রীমাণিকলাল সিংহের 'রাঢ়ের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি' বই থেকে। তিনটি খণ্ডে এই বই এবং শ্রীসিংহের রাঢ়ভূমি-সংক্রান্ত অন্যান্য বইগুলি তদানীন্তন মল্লভূমের ডোম, বাউরি, কাহার, পোদ, তিলি, তামলি, কৈবর্ত, মাহিষ্য, সদগোপ, বণিক, মোদক ইত্যাদি জনজাতির সাংস্কৃতিক সত্তার অসামান্য দলিল।
শ্রীমানিকলাল সিংহ মহাশয়ের গ্রন্থ আমাকে আরও অনুসন্ধিৎসু করে তোলে এবং তিলে তিলে মল্লভূম-সম্পর্কিত বিপুল বৈচিত্রের রসে আমি নিমজ্জিত হতে থাকি। হাড়ি জাতির প্রসববিদ্যায় পারদর্শিতা, ডোম জাতির সংগীত-পারদর্শিতা, এমনকি তার সাহায্যে হাতি বশ করার বিদ্যা আয়ত্ত করা,
ময়রাদের দেলোচিনি তৈরির কৌশল, তাঁতিদের প্রথম তাঁত চালানোর সময় দড়ির অভাবে নাগ দিয়ে তাঁত চালানোর লৌকিক কাহিনি, লোচন পণ্ডিতের রাগতরঙ্গিণী, রামাই পণ্ডিতের শূন্যপুরাণ আরও অসংখ্য কৃষ্টিকথা পরতে পরতে লৌকিক কৃষ্টির সৌন্দর্য উন্মোচন করে। সেগুলি আয়ত্ত করতে করতে রাজা হাম্বিরমল্লের রাজসভায় অজান্তেই ঢুকে পড়ি। রানি সুদেষ্ণা, রাজকন্যা মাধুরী, মন্ত্রী মাধবাচার্য, ব্যাসপণ্ডিত... ইতিহাস কথা বলে ওঠে। ইতিহাস-কথামালার চরিত্রদের জীবন লেখার চেষ্টা করি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""