প্রশ্ন উঠতেই পারে, ৫৭ বছর আগে প্রকাশিত একটি বইকে প্রায় বিস্মৃতির অভল থেকে টেনে এনে প্রকাশ করার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে। এর উত্তরে আমরা অনেক কথা বলতে পারি, তবে প্রধান একটি কারণ জীবনানন্দ দাশ।
আমরা জানি, জীবনানন্দ দাশের প্রথম মুদ্রিত কবিতাটি তাঁর কুড়ি বছর বয়সে লেখা। 'বর্ষ-আবাহন' নামে সেই কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার বৈশাখ ১৩২৬ সংখ্যায়। আর জীবনানন্দ দাশের প্রথম গদ্য প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর ছাব্বিশ বছর বয়সে। এবং তা 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার পরপর তিনটি সংখ্যায়, অগ্রহায়ণ-পৌষ, মাঘ-ফাল্গুন, চৈত্র ১৩৩২, সাধুভাষায় রচিত 'স্বর্গীয় কালীমোহন দাসের শ্রাদ্ধবাসর' শীর্ষক নিবন্ধ রূপে প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও পত্রিকায় প্রকাশের আগে, কালীমোহন দাসের শ্রাদ্ধবাসরে আশ্বিন ১৩৩২-এর শেষের দিকে, এটি পঠিত হয়েছিল এবং সম্ভবত পুস্তিকা আকারে মুদ্রিত হয়ে বিতরিত হয়েছিল।
জীবনানন্দ দাশের জীবনে পিতৃকুল ও মাতুকুল যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা তাঁর তিনটি প্রবন্ধ পাঠ করে জানতে পারি। প্রবন্ধ তিনটি 'আমার বাবা', 'আমার মা' এবং 'আমার মা বাবা'। ২২ নভেম্বর ১৯৪২ বাবা সত্যানন্দ দাসের মৃত্যুর পর 'আমার বাবা' নিবন্ধটি লেখা, ২৫ ডিসেম্বর ১৯৪৮ মা কুসুমকুমারী দাসের মৃত্যুর পর 'আমার মা' নিবন্ধটি লেখা এবং 'আমার মা বাবা' নিবন্ধটি উত্তরসূরি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় পৌষ ১৩৬১ সংখ্যায়। যদিও 'আমার মা বাবা' নিবন্ধটি প্রায় 'আমার বাবা' ও 'আমার মা' নিবন্ধ দু'টির একত্রিত রূপ।
কুসুমকুমারী দাস কবিতা লিখতেন। কুসুমকুমারী দাসের বাবা চন্দ্রনাথ দাসও কবিতা লিখতেন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""