যে কোন তাৎপর্যপূর্ণ, বড় ঔপন্যাসিকের একটা তত্ত্ববিশ্ব, একটা সৃষ্টিময় বীক্ষা থাকে। তাঁর উপন্যাসের নির্মাণে এর ছাপ থেকে যায়, যদিও উপন্যাস কেবল তত্ত্ব নয়। অসীম রায় বাংলাভাষার স্বল্পসংখ্যাক সেই লেখকদের একজন যিনি মেজাজে ঔপন্যাসিক। তাই প্রাথমিকভাবে কবিতায় নিজেকে ও পারিপার্শ্বিককে বুঝতে চাইলেও, উপন্যাসই তাঁর সৃষ্টিময় ব্যক্তিত্বের প্রকাশের যথার্থ মাধ্যম, ছোটগল্প লিখেছেন অনেক পরে এক আরম্ভের রাতকে কেন্দ্র করে। তাঁর তত্ত্ববিশ্ব কি, সৃষ্টিময় বীক্ষা কি তাই প্রত্যক্ষতর ধরা দেয় তাঁর প্রবন্ধে, যার একটি সংকলন প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৬-তে। তিনি লিখেছেন, "একজন লেখক তা নিজস্ব বুঝতে ও বোঝাতে যেসব বিষয় গ্রহণ করেছেন তারই আলোচনা এই সংকলন।" অর্থাৎ ঔপন্যাসিক ও লেখক অসীম রায়ই এক অর্থে এই প্রবন্ধাবলীর বিষয়।
এ সংকলনের দীর্ঘতম প্রবন্ধ "বরীন্দ্রনাথ ও তাঁর উত্তরাধিকার।" সাহিত্যের ইতিহাস ও বর্তমান-দুই মিলিয়ে পঁয়ত্রিশটি প্রবন্ধ সংকলনে আছে। তার মধ্যে "বস্তুরহস্য ও জীবনদর্শন" নামক দ্বিতীয় দীর্ঘ প্রবন্ধটি-আপাত আলাদা কিন্তু অসীম রায়ের নিজেকে বুঝতে ও বোঝাতে সহায়ক। আমরা অসীম রায়ের তত্ত্ববিশ্ব ও সৃষ্টিময় বীক্ষাটি বোঝবার চেষ্টা করব-পাঠক স্বয়ং প্রবন্ধগুলি পড়বেন। অসীম রায় সমাজবাদী ভাবনায়, মার্কসীয় বীক্ষায় উদ্বুদ্ধ। "আবিশ্ব সাহিত্যের পরাক্রান্ত রূপ তার সঙ্গে সমাজবাদী চৈতন্যের কতখানি মিল এ প্রশ্ন যে কোন সিরিয়াস লেখকের প্রশ্ন। এ প্রশ্নের জটিলতাকে রাজনৈতিক মহল থেকে সরল করে দেখা ও দেখানোর সম্ভাবনা যথেষ্ট, কারণ শিল্পসাহিত্যের বিরাট প্রসারিত সমৃদ্ধ চেহারা মার্কসবাদী নন্দনতত্ত্বে স্বীকৃত হলেও তার ফলিত প্রয়োগবাদী রূপ বেশ কিছু পরিমাণ সঞ্চারিত ও খর্ব ঐতিহাসিক কারণেই। মার্কস এঙ্গেলস তাঁদের জাগ্রত দৃষ্টিতে রাজনীতি অর্থনীতি ইতিহাস দর্শন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে যতখানি সময় দিতে পেরেছেন তার খুব অংশই নিয়োজিত শিল্প ও সাহিত্য আলোচনায়।" ব্যক্তি ও বহির্বিশ্বের যে দ্বন্দ্বময়তা বা ডায়ালেকটিকস যা মার্কসবাদী নন্দনতত্ত্বের মূলকথা তা প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার কখনও
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""