সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে বই লিখব এমন কথা কোনোদিন ভাবিনি। আরও ভালোভাবে বলতে গেলে, বই লিখব-এই কথাটাই কোনোদিন মাথায় আসেনি, কিন্তু বই পড়বার প্রবল নেশা আমায় ধরেছিল সেই ছোটোবেলা থেকে। আর সেইসব বইয়ের বেশির ভাগই ছিল সত্যজিৎ রায়ের লেখা। ফেলুদা-শম্ভু-বন্ধুবাবু-ফটিক-হারুনদার
পথ ধরেই আর-একটু বড়োবেলায় আমি সন্ধান পেয়েছিলাম চলচ্চিত্রকার, চিত্রকর, গ্রাফিক ডিজ়াইনার, সংগীতকার সত্যজিৎ রায়ের। এ কথা আজ বেশ বুঝতে পারি, একটি ছোট্ট মফসসল শহরে বড়ো হওয়া আমার মতো একজন কৌতূহলী কিশোরের মনের জানলা আক্ষরিক অর্থেই খুলে দিয়েছিলেন সত্যজিৎ তাঁর বহুধাবিস্তৃত লেখনী ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে। আজ জীবনের অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও সেই খোলা জানলা দিয়ে আসা আলো আর বাতাস আমার মনটাকে তাজা রাখে। আমি গোয়েন্দাগিরি করিনি, পেশায় স্বাধীন চিত্রকর ও
শিল্পকলার অধ্যাপক হয়েছি। কিন্তু নিজের মনটাকে অন্ধকার হতে না দিয়ে, সত্যজিৎ প্রদর্শিত পথে কীভাবে নিজের অবজার্ভেশনের জায়গাটা তৈরি করতে হয় এবং নিজের কাজে প্রয়োগ করতে হয়, সেসব শিখে পরবর্তীকালে পেশাদার শিল্পী হিসেবে আশাতীত ফল পেয়েছি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে সত্যজিতের লেখা ও তাঁর অন্যান্য কাজ আমার কাছে প্রায় জীবনের গাইডবুক হয়ে উঠেছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""