সাহিত্যসৃষ্টির আসল উদ্দেশ্যই হল পাঠকের চিত্ত জয় করা, কী করে তাঁকে জিনে নেব- এইটি করায়ত্ত করাই একজন লেখকের ভাষার জাদু। আর সেই জাদুদণ্ড অনায়াসে ঘোরানো যায় রস-রচনায়। 'অনায়াস' শব্দটি বললাম বটে, কিন্তু সত্যিই কি তা-ই? বরং এক্ষেত্রে শুরুতেই অন্তরায় হয়ে থাকে পণ্ডিত ব্যক্তিদের নাসিকা কুঞ্চন। তাঁদের অনেকেই তো রস-রচনাকে মূলধারার সাহিত্যে অন্তর্গত করতে অনিচ্ছুক। কারণ শব্দ দিয়ে লোক হাসানো? সে তো ভাঁড়ের কাজ। সাহিত্য হবে আয়নার মতো, যার সামনে দাঁড়ালেই জীবনদর্শন- অর্থাৎ অন্তরের অন্তঃস্থল পর্যন্ত দৃশ্যমান হবে। রস-রচনা তো খদ্যোতের মতোই চট করে জ্বলে উঠে নিভে যায়-এসব লেখা তো কালোত্তীর্ণ হবার নয়। কিন্তু কালজয়ী হওয়ার এই তাগিদ কেন? এই নশ্বর জগতের কোন্ সৃষ্টিই বা চিরকালের? মহাকালের হিসেবে সবই তো মুহূর্তের মধ্যে স্ফূর্ত। রসরাজ শিবরাম চক্রবর্তীর কথায়, "কোনো জীবন-জিজ্ঞাসারই জবাব নেই। আর জীবন-দর্শন? বহু বহু দর্শনের পর দেখা যায় সমস্ত দেখাই ভুয়ো। নিতান্তই মায়া।"
তাই রোজকার জীবনে ঘটে চলা অনেক আপাত-তুচ্ছ ঘটনার মধ্যে রস-সাহিত্যিক খুঁজে পান শব্দগুচ্ছ- যারা বেদানার দানার মতোই রসে টইটম্বুর। তাঁরাও জীবনটাকেই দেখেন, এবং দেখান। কিন্তু সেই দর্শন হয় একটু বাঁকাভাবে। সবকিছুই কৌতুকের কোণ থেকে। তবে কাজটি খুব কঠিন। তার প্রথম কারণ রসবোধ সবার সমান নয়। একই ঘটনায় কেউ হাসেন অট্টহাসি, কেউ বা গোঁফের ফাঁকে, কেউ তা হাসির পক্ষে নেহাতই তুচ্ছ জ্ঞানে নিরুত্তাপ থাকেন। হাস্যরসের অন্যান্য মাধ্যম তথা চলচ্চিত্র, নাটক ইত্যাদির ক্ষেত্রে দর্শন বা শ্রবন ইন্দ্রিয়েরও ভূমিকা
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""