'ভারতীয় দর্শন'-এর প্রসঙ্গ উঠলেই যে সকল দর্শনশাস্ত্রের উল্লেখ করা হয় তাদের মধ্যে শাক্ত দর্শন থাকে না। সর্বদর্শনসংগ্রহ-আদিতে শাক্ত দর্শন নেই। মনে হতে পারে যে শাক্ত দর্শন আদৌ সে অর্থে 'দর্শন' পদবাচ্য নয়। তার প্রধান কারণ, এই দর্শনের সিদ্ধান্তসমূহকে কোনও সুব্যবস্থিত ও সুগঠিত canon-এর রূপ দেওয়া হয়নি। যেহেতু এই সকল সিদ্ধান্ত ক্রিয়াভিত্তিক এবং ক্রিয়ানুষ্ঠানের মধ্যেই গুপ্ত ভাবে সমাহিত, তাই গুরুমুখবেদ্য তত্ত্ব রূপেই এগুলো সাধনপরম্পরায় প্রবাহিত হয়ে আসছে। ক্রিয়াভিত্তিক এই অর্থেও যে এই সকল ক্রিয়ানুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধকগণ যা প্রত্যক্ষ করেন, তা-ই এখানে দার্শনিক সিদ্ধান্তের রূপ নেয়। কেবলমাত্র যুক্তি-প্রমাণ বিচার দ্বারা এগুলো সিদ্ধ হয় না। তাই খুব সুগঠিত ও পারিপাট্যপূর্ণ 'দর্শনশাস্ত্র' রূপে এগুলোকে সাজিয়ে তোলা দুষ্কর। উপরন্তু, যেহেতু এই সকল ক্রিয়া বামাচারের সঙ্গে যুক্ত, তাই অধিকারী ভিন্ন কারুর কাছেই প্রকাশ করা হয় না। শাক্ত তন্ত্রাদিতে লিপিবদ্ধ রূপে যে সকল দার্শনিক তথ্য পাওয়া যায়; তা খণ্ডিত, বিচ্ছিন্ন এবং তা দিয়ে কোনও পূর্ণাঙ্গ দর্শনশাস্ত্র তৈরি হয় না। ফলে যখনই আলাদা করে শাক্ত দর্শন
নিয়ে কোনও আলোচনা হয়, তখন তাকে মূলস্রোতীয় দর্শনশাস্ত্রসমূহের, বিশেষ করে অদ্বৈত বেদান্ত এবং সাংখ্যের কাঠামোর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এই নিয়ে গ্রন্থের অধ্যায়গুলোতে বিস্তারে আলোচনা করা হবে। এখানে শুধুমাত্র শাক্ত দর্শনের মূল সিদ্ধান্তগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হচ্ছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""