সপ্তদশ শতাব্দীর উপান্তে কীর্তনের নিখিলপ্লাবী সুরমূর্ছনা যখন ক্লান্ত হয়ে এসেছে, সংখ্যাতীত প্রতিভার বিস্ময়বাহী শোভাযাত্রাও যখন অপসৃয়মান, তখন যুগের সেই মর্মন্তুদ শূন্যতাকে পূর্ণ করেছেন সাধক কবি রামপ্রসাদ। তিনি ঈশ্বর ও ভক্তের মধ্যে, দেবতা ও মানুষের সঙ্গে মানবিক বৃত্তিযোগে এক নতুন সেতুবন্ধন করেছেন। মঙ্গলকাব্যে স্বর্গের প্রতিষ্ঠাতুর দেবগণ স্বেচ্ছায় মর্ত্যের মৃত্তিকায় অবতরণ করে উদাসীন মানুষের সচেষ্ট ভক্তির বিনিময়ে ঐহিক বিত্তসম্পদ দানের প্রস্তাব করেছেন, কিন্তু দীর্ঘ পাঁচশ বছরেও সেই প্রস্তাব তাঁরা কাব্যপৃষ্ঠার বাইরে পালন করতে পারেননি। রামপ্রসাদই সর্বপ্রথম দেবতার উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বদান্যতার স্থলে মানুষের প্রাত্যহিক গ্লানি ও বিপন্ন জীবন-যন্ত্রণার মধ্যে থেকে বিশ্ববিধাত্রীর আশীর্বাদ ও স্নেহ পার্থনা করেছেন।
রামপ্রসাদের সঙ্গেই যাঁর ভক্তিপূত মহিমার কথা স্মরণে আসে তিনি কমলাকান্ত; কালীপদনীলকমলের ভ্রমরা; শ্যামাস্তবের কাব্যকার। শ্যামা বিষয়ক পদাবলীতে কমলাকান্তের আবেগ নিয়ন্ত্রিত, ভাষা সংস্কৃতঋদ্ধ, ছন্দ সুরনির্ভরতাময় শ্রবণসুভগ, হৃদয়বৃত্তির প্রকাশ অনন্য মাতৃমুখী। শাক্ত ভক্তিবাদে কমলাকান্ত একজন দ্রষ্টা পুরুষ। কমলাকান্ত যোগাচারঘটিত সাধনা এবং তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপকে তীর্থ পর্যটন, গয়া-গঙ্গা -বারানসীর মোক্ষদ মাহাত্ম্য এবং মন্দির স্পর্শ-কাতরতার বিকল্পে স্থাপন করেছেন। রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের সংক্ষিপ্ত জীবনীর অনুধ্যান এবং সেই সঙ্গে তাঁদের গানে শক্তিতত্ত্বের ইঙ্গিত বিশ্লেষণের একটি মিতায়ত প্রয়াস এই গ্রন্থে করা হয়েছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""