'ম্যাজিক' শব্দটার সঙ্গে একপ্রকার রহস্যময়তা জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু জাদু প্রদর্শনের আসল উদ্দেশ্য যে মানুষকে নির্মল আনন্দপ্রদান, প্রবাদপ্রতিম কবির লেখা চিরঅমর এই ছত্রগুলিতেই সে নির্যাস লুকিয়ে আছে। জাদুবিদ্যার প্রতি মানুষের অমোঘ আকর্ষণ চিরকালীন। দেশ, কাল, সময়ের গণ্ডী পেরিয়ে নবীন থেকে প্রবীণের মধ্যে এমন চরিত্র বিরল, যে কখনও না কখনও জাদুর আশ্চর্য ভেল্কি দেখে মুগ্ধ হয়নি। সুপ্রাচীন মেসোপটেমিয়ান, মিশরীয়, গ্রীক কিংবা রোমান সভ্যতালগ্নে জাদুবিদ্যা চর্চার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। দেবদেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত বিবিধ রীতিনীতি, চিকিৎসাশাস্ত্র এমনকি অশুভআত্মা দুরীকরণের নানা উপাচারবিধির মধ্যে জাদুর যথেচ্ছ ব্যবহার সেকালে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিল। এসমস্ত ক্রিয়াকলাপ সংঘঠিত করতেন পুরোহিত অথবা ধর্মগুরু স্থানীয় সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা। হিসেবমতো বলা যায়, এরাই পৃথিবীর প্রথম জাদুকর। জাদু কিন্তু সেযুগে মনোরঞ্জন নয়, বরং মানুষের সমীহ আদায়ের উপকরণ ছিল। লোকে ভাবত, স্বয়ং ঈশ্বরের বরপুত্র না হলে কি এরূপ অমিতশক্তিধর হওয়া যায়? জাদুবিদ্যা যেখানে ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে চলেছিল, সেখানে তার অপপ্রয়োগও যে ধীরে ধীরে মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে, তাতে আর আশ্চর্য কী? জাদুর এ'ধরণের ব্যবহারকে বলা হতে লাগল 'উইচক্রক্র্যাফট' কিংবা 'কালাজাদু'।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""