সন্ধে গড়িয়ে তখন সদ্য রাত নামছে শহরে। রং-বেরঙের আলোয় ভেসে যাচ্ছে ডান্স ফ্লোর। কয়েকজোড়া পা গানের তালে তালে দুলে উঠছে। ট্রারের এককোণে মুখোমুখি বসে তৃণীর আর গৌরব। অফিসে সিনিয়র হলেও, গৌরবের সঙ্গে যেন এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন অনুভব করে তৃণীর। গোটা পৃথিবীটাতে এই একজনকেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় তৃণীরের।
যদিও মাসতুতো বোন তিস্তাও ইদানিং খুব ধৈর্য ধরে প্রতিটা কথা শোনে ওর। তবু হাজার হোক, বোন তো, কতটাই বা বলা যায়। বরং গৌরবের কাছে নিজেকে সহজে মেলে ধরতে পারে তৃণীর।
একটু শাসনের সুরে গৌরব বলল, "এটাই কিন্তু লাস্ট পেগ। এবার বাড়ি যাবে তুমি।"
"ধুর শালা, বাড়ি গিয়ে কী করব!"
"কী করবে মানে? কাল আসব না আর। আবার উইক-এন্ডে না হয় একদিন দেখা যাবে।"
শেষ পেগটা গলায় ঢালল তৃণীর। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত শরীরে কোনওরকমে যেন লেপ্টে রয়েছে ঘামে ভেজা শার্টটা। শার্টের হাতাদুটো যত্ন করে গুটিয়ে দিল গৌরব।
দু'চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়ছে তৃণীরের। একনাগাড়ে বলেই চলেছে, "কেউ কারোর হয় না রে। কম ভালোবাসিনি আমি শ্রাবণীকে। কম করিনি ওর জন্য। শালা গোটা দুনিয়ার সঙ্গে লড়ে গেছি। পরিবর্তে একটু ভালোবাসতে পারল না আমায়। এর বেশি কি চেয়েছিলাম গৌরব আমি? 'আনকন্ডিশনাল লভ'। সেটাও দিতে পারল না? কিছুই পেলাম না রে জীবন থেকে।"
তৃণীরের হাতটা চেপে ধরে একবার আশপাশটা দেখে গৌরব বলল,
"তৃণীরদা, কন্ট্রোল ইওরসেলফ।"
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""