অ্যাঁ, ভূমিকা লিখতে হবে? তাও আবার অন্যের বইয়ের। পূরবী যখন আমাকে তার আসন্ন বইয়ের ভূমিকা লিখতে বলল তখন আমার ঠিক এরকমই প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। আমি নিজেই কী ছাইপাশ লিখি তার ঠিক নেই তার উপর আমি নাকি পূরবী গুড়িয়ার মত এক শক্তিশালী কলমের ভূমিকা লিখব? সেই কবে থেকে ওঁর লেখার সঙ্গে আমি পরিচিত। যেমন তার শব্দ চয়ন তেমনই তার গল্পের প্লটের বিন্যাস। সামাজিক থেকে থ্রিলার সব ক্ষেত্রে কী দৃপ্ত পদচারণা। পাঠকদের যে পারে এক অক্ষরের জাদুকাঠি বুলিয়ে কোন এক অচিন দেশে নিয়ে যেতে, যার গল্প একবার পড়তে শুরু করলে আর থামা যায় না শেষ না হওয়া অবধি; তাঁর বইয়ের আমি কী ভূমিকা লিখব?
কিন্তু ওই যে লোভ বলে একটা বিষয় আছে না, সেই লোভে আমিও পড়লাম। কিসের লোভ? পূরবীর এই উপন্যাসটা সবার আগে পড়ে ফেলার লোভ। দুই মলাটে বন্দী হওয়ার আগে তাকে ছুঁয়ে দেখার লোভ। সেই সঙ্গে পূরবীকে আমি বোনের মত স্নেহ করি তাঁর অবদার তাই ফেরাই কী করে? তাই বললাম, আচ্ছা বেশ। লিখব তোমার বইয়ের ভূমিকা। তুমি পাঠিয়ে দাও তোমার উপন্যাস।
পাণ্ডুলিপি পড়া যখন শুরু করলাম তখন বাজে প্রায় রাত এগারোটা। আমি এমনিতে রাত বেশি জাগি না, তাই আমি ভেবেছিলাম অল্প একটু পড়ে পরের দিন বাকিটা পড়ব। কিন্তু তারপর কী যে হল নিজেই বুঝলাম না, কখন যে ঘড়ির কাটা ভোরের দিকে এগিয়ে গিয়েছে নিজেই জানতে পারি নি। জানতে দেয় নি মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে থাকা পূরবীর লেখা শব্দেরা।
১৯১২ সালে পৃথিবীর বুক থেকে চিরদিনের মত হারিয়ে গিয়েছিল এক প্রকাণ্ড জাহাজ। পূরবীর উপন্যাসের শুরু এর ঠিক দশ বছর পর থেকে। নিউ ইয়র্কের দুদে ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের অফিসার ড্যানিয়েল রিচার্ডের বাড়িতে একটি বেনামী চিঠি আসে। চিঠির বয়ান অনুযায়ী আরো অনেক মানুষের সঙ্গে তার আঙ্কেলের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। বিশালকায় জে এম আর টাইটান অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে অন্তর্হিত হয়েছে। প্রারম্ভ হয় এক অভিযানের। আঙ্কেল অগাস্টিনোকে খুঁজতে গিয়ে এক চরম সত্যের মুখোমুখি হয় রিচার্ড। আর আমরাও মুখোমুখি হই ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের।
এই অভিযানের প্রতিটি ধাপে যে রোমহর্ষক পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে তা আমাকে বইয়ের পাতা থেকে মুখ সরাতে দেয় নি। ওই যে পোশাকি ভাষায় বলে না, 'আনপুটডাউনেবল"। আমার কাছে এই বই সেই অর্থে তেমনই।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""