সে বহু বহু বহু যুগ আগের কথা। ভারতবর্ষের উত্তরাংশে আর্যগণ স্থিত হয়েছেন, বৈদিক সভ্যতার আলোকে জ্ঞান ও কৃষ্টির সমন্বয় ঘটছে সেখানে। কিন্তু দাক্ষিণাত্য তখনো অধরা। আর্যদের কাছে দাক্ষিণাত্যের অরণ্য এক অন্ধকারাচ্ছন্ন রহস্যময় অস্তিত্ব। বিপদসংকুল অরণ্য সদাকম্পমান রাক্ষসদের প্রতাপে। তাদের উপর রয়েছে রাবণের ছত্রছায়া। ত্রিলোকজয়ী রাক্ষসরাজ রাবণ শৌর্যে, বীর্যে, ব্যক্তিত্বের প্রকাশে যিনি অনন্য এই জগতে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাহস আছে কার? একজন করেছিলেন সেই সাহস। নিয়তির বিধানকে লক্ষ্যপূরণের পাথেয় করে পাড়ি দিয়েছিলেন সেই দাক্ষিণাত্যের গহন অন্ধকারে। লক্ষ্য ছিল দাক্ষিণাত্যে আর্যসংস্কৃতির আনয়ন, আর্যাবর্তের রাজশক্তির প্রভাব বিস্তার। আর লক্ষ্য ছিল রাবণের সাথে সম্মুখসমর প্রবল আকর্ষনীয় সেই ব্যক্তিত্বকে শত্রুরূপে পাওয়ার প্রচন্ড বাসনা। সেই লক্ষ্য অর্জনের কন্টকাকীর্ণ পথে চলে কিভাবে বিজয়ী হলেন অযোধ্যার রাজকুমার শ্রীরাম? সাধারণ এক রাজপুরুষ কিভাবে জনমানসে হয়ে উঠলেন নারায়ণের সপ্তম অবতার? এই বিজয়ের মূল্য কি সারাজীবন ধরে দিয়ে যেতে হবে তাঁকে? আর রামপত্নী সীতা? দুই রাজশক্তির মধ্যেকার এই ক্ষমতার যুদ্ধ কি প্রভাব ফেলবে তাঁর জীবনের গতিপথে? এই প্রশ্নগুলির মধ্য দিয়ে এই উপন্যাস এক অন্য আঙ্গিকে সপ্তকান্ড রামায়ণকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""