বাস্তব পৃথিবীর এক দগদগে ক্ষতের ছায়া থেকেই এই উপন্যাসের জন্ম। আর জি কর মেডিকেল কলেজের সেই নারকীয় ঘটনা আমাদের প্রত্যেককে, প্রতিটি সত্তাকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে যেখানে বিচার প্রায়শই আইনি জটিলতার শীতল ফাইলে চাপা পড়ে যায়, সেখানে কলম আমাকে দেয় এক অমোঘ ক্ষমতা ন্যায়বিচারের কুঠার। 'পদ্মা' সেই প্রতিশোধের আখ্যান, যা আমরা আমাদের। অবচেতনে, হৃদয়ের অতল গহ্বরে সর্বদা চেয়ে এসেছি।
এ এক নিঠুর, আপসহীন হিসাবনিকাশ।
লেখার সময় আমার একটা অদ্ভূত বাতিক কাজ করে। আমি কখনোই বিশুদ্ধ ভৌতিক গল্প বা প্রথাগত 'হরর' লিখতে পারি না, যতক্ষণ না সেটার পেছনে একটা অকাট্য যুক্তি বা বিজ্ঞানের মোড়ক লাগাতে পারছি। অতিপ্রাকৃতকে দুমড়েমুচড়ে আমি তাকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর এক বিকৃত ও জটিল রূপ দিতে ভালোবাসি।
গল্পের বুননটা আমি একটু ভিন্নভাবে সাজিয়েছি। উপন্যাসের প্রথম ভাগ-
শতকরা পঁচিশ ভাগ-ইচ্ছাকৃতভাবেই এক ধীরলয়ের 'স্লো-বার্নার' হিসেবে রাখা হয়েছে। এরপর গতি আরও মন্থর হবে, যেন বাতাসের অক্সিজেন কমে আসছে। এই ধীরলয় আসলে একটা ফাঁদ। অপরাধবোধ আর ভয়ের ঘন কুয়াশায় ধীরেসুস্থে শ্বাসরোধ করার এক প্রক্রিয়া। এই প্রাথমিক মন্থর গতিটুকু প্রয়োজন ছিল, যাতে গল্পের বিষটা আপনাদের শিরায় শিরায় থিতিয়ে পড়ার সময় পায়। যাতে গল্পের শেষে যখন আখ্যানটি হঠাৎ করে এক অভাবনীয় শিখরে পৌঁছাবে, তখন সেই প্রতিশোধের উন্মাদনা বা 'একস্ট্যাটিক' অনুভূতি আপনারা হাড়হিম করা তীব্রতায় অনুভব করতে পারেন। আর এই ক্ষেত্রে বইটা প্রথম কয়েকটা অধ্যায়ের পর থেকেই শুড ফীল ঊনপুটডাউনএবল।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""