পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতনে অবস্থিত শরশঙ্কা দিঘিকে কেন্দ্র করে বহু কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। শোনা যায় অনেক লোককথাও। আবার এই দিঘি ঘিরে গড়ে উঠেছে অনেক মিথ। শরশঙ্কা আসলে একটি কাহিনীর আকর। ঐতিহ্যগত এইসব আখ্যানগুলি মৌখিকভাবে প্রবাহিত হয়ে চলেছে বহু যুগ ধরে। সময় এবং স্থানভেদে এর পাঠান্তরও হয়েছে নানাভাবে। কাহিনীগুলি আবর্তিত হয়েছে শক্তিশালী কোনো মানুষ অথবা দেবতাকে কেন্দ্র করে। মহাভারতের মৌষলপর্ব, ওড়িশার পাণ্ডববংশীয় নৃপতি শরশঙ্খ দেব এবং গৌড় অধিপতি শশাঙ্কের সঙ্গে শরশঙ্কা দিঘির চিরন্তন কল্পকাহিনী ছাড়াও আরও বহু ইতিহাস লুকিয়ে আছে শরশঙ্কার জলের তলায়, যা অনেক না-জানা সময়ের কথা বলে। শরশঙ্কাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একাধিক স্থাপত্য, পুরাকীর্তি এবং বৃহৎ এক মেলা। শরশঙ্কা শুধু সাধারণ জলাধার নয়, সে গর্বিত করে মেদিনীপুরের দাঁতন জনপদকে। সে আশ্রয় দেয় শরণার্থীদের, সে সম্প্রীতির ধারক হয়। সবমিলিয়ে, একটি দিঘি দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত বাংলা তথা সারা বাংলার কাহিনীর নায়ক হয়ে উঠেছে। সবটাই আমাদের কৌতূহল উদ্রেক করে।
অবশেষে, সেইসব কৌতূহলের নিরসন ঘটিয়েছেন আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক সম্ভজানা। একটি দিঘিকে ঘিরে যে কতরকম আলোচনা হতে পারে, তা এই গ্রন্থপাঠে অনুধাবিত হবে। আমার বিশ্বাস, সন্তু জানা লিখিত এই গ্রন্থ বাংলার আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চায় একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। তাঁর সুললিত ভাষা এবং উপস্থাপনা সকল পাঠককে আকৃষ্ট করে রাখবে, এই আশা রাখি।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""