চিঠি মানুষের অন্তস্তল অব্দি দেখতে সাহায্য করে। ১৯২৪ সাল থেকে ১৯৩২ সাল অব্দি সুভাষ চন্দ্র বসুর লেখা এই চিঠিগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। চিঠিগুলো বেশিরভাগই লেখা রাজবন্দি থাকা অবস্থায়। তাঁর মেজদা শরৎচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে সন্তোষ কুমার বসু, দিলীপ কুমার রায়, মোতিলাল নেহেরু, জে এম সেনগুপ্ত, সুনীল বসু, জানকীনাথ বসু, সত্যেন্দ্রচন্দ্র মিত্র, বার্মার ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ প্রিজনস প্রমুখ ব্যক্তিত্বকে বিভিন্ন সময়ে লেখা চিঠি এই সংকলনে স্থান পেয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক কাজকর্মের প্রতিটি খুঁটিনাটি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক ঘটনাবলির প্রতি তাঁর সুস্পষ্ট মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে চিঠিগুলিতে। এই অপ্রতিরোধ্য, অভঙ্গুর মনোভাব তাঁর সহজাত নেতৃত্বের দিকটিতে আলো ফেলে। আমরা মুগ্ধ না হয়ে পারি না।
জেলে বসেই নগর পরিকল্পনা তথা শিক্ষা স্বাস্থ্য রাস্তা নর্দমা আলো উন্নত সংশোধনালয়, হিমঘর, বাজার ব্যবস্থা, নদীর ভবিষ্যৎ গতিপথ পরীক্ষা, কলকাতায় গুটি বসন্তের প্রাদুর্ভাব ইত্যাকার বিষয় নিয়ে ভেবেছেন। সবিস্তারে চিঠিগুলোতে লিখেছেন। জেলের চার-দেওয়ালের চৌহদ্দি তাঁর মনোবলে এতটুকু ফাটল ধরাতে পারেনি। একমাত্র অবমাননাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তবেই তিনি বিচলিত হয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারংবার চিঠি লিখে তার প্রতিকার চেয়েছেন। এমনকি ইংরেজ সরকার তাঁকে মুক্তি দিতে চেয়ে শর্ত আরোপ করলে তিনি অটুট থেকেছেন-তাঁর আদর্শের কাছে। 'কূটনীতির পিচ্ছিল পথ' থেকে সর্বদা দূরে থাকতে চেয়েছেন। সবচেয়ে আগে সবচেয়ে বেশি আদর্শকে বড়ো বলে জেনেছেন। মেনেছেন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""