'বঙ্গাব্দ' বলতে বঙ্গের অব্দ, অর্থাৎ সব তারিখকে বোঝায়। একটি অব্দকে বাঁচিয়ে রাখার প্রথম শর্ত হচ্ছে, সেই অব্দকে কত মানুষ মান্যতা দিচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। যেমন 'খ্রিস্টাব্দ'-কে আজ গোটা পৃথিবীর মানুষ মানছে। আবার বৃদ্ধাব্দ, মহাবীরাব্দ, নানকাব্দ, চৈতন্যাব্দ, রামকৃষ্ণাব্দ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর নামে লোকনাথাব্দ, প্রভৃতি অব্দগুলি সার্বজনীন না হলেও তাঁদের ভক্ত-শিষ্যগণ মানেন। এছাড়া রাজাদের মধ্যে অনেকেই তাঁর রাজত্বের সূচনা নিজের নামে বা রাজ্যের নামে একটি অব্দ প্রচলন করেছেন, যেমন যুধিষ্ঠিরাব্দ, বিক্রমাব্দ বা বিক্রম সংবৎ, হর্ষাব্দ, মল্লাব্দ প্রভৃতি।
৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল বঙ্গাব্দের প্রথম বর্ষ ১লা বৈশাখ সোমবার থেকে বর্তমান বাংলা সন চালু হয়েছে।
সম্রাট আকবর বঙ্গাব্দের স্রষ্টা, এই কথাটি এত বেশি প্রচারিত যে অসত্যকে সত্য পরিণত করা হয়েছে। আকবর নিজে কখনো এমন দাবী করেন নি। আকবরের জন্ম ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ অক্টোবর তারিখে, তাঁর জন্মের ১৪৮ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত একটি অব্দের প্রতিষ্ঠাতা কি করে হলেন!
বঙ্গে অনেকগুলি তারিখ বা তিথিকে নববর্ষের মান্যতা দিয়ে চলে পূজো পার্বন অনুষ্ঠান। যেমন ১লা অগ্রহায়ণকে নববর্ষ বলা হয়, এই নববর্ষ পালিত হয় পিঠে-পার্বণের মধ্য দিয়ে। লৌকিক ছড়ায় এর সূচনার কথা রয়েছে এভাবে
'অঘ্রানেতে বছর শুরু নবান্ন হয় মিঠে। পৌষেতে আউনি বাউনি ঘরে ঘরে পিঠে।
একসময় ১লা চৈত্রকে বৈদিক যুগে নববর্ষের দিন হিসেবে পালন করা হতো। এই মাসটিতে সেকারণে ব্রত-উপবাসের নিয়ম সবথেকে বেশি পাওয়া যায়
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""