রক্তিম কাষায় পরিহিত মুন্ডিতমস্তক শ্রমণ। যার চারিত্রিক রৌদ্রছটায় স্থবির ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় জগতে এসেছিল প্রাণচাঞ্চল্য, যার মজঝিম পন্থায় ব্রাহ্মণ্যবাদীদের আড়ম্বরতাপূর্ণ যাগযজ্ঞ, বলি প্রথার পরিবর্তে এসেছিল হৃদয়ের স্পর্শ, সেই শাক্যমুনি তথাগত বুদ্ধ শুধুমাত্র ভারতবর্ষেরই নয়, উপমহাদেশ তথা পৃথিবীর আধ্যাত্মিক জগতের এক উল্লেখযোগ্য পুরুষ। 'বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি' শব্দবন্ধে শুধুমাত্র চীবর পরিহিত শ্রমণেরই নয়, অসংখ্য গৃহী নর-নারীর হৃদয়ে ভক্তির যে ফল্গুধারা বয়ে চলেছিল সেই খ্রিষ্ট জন্মের ছয় শতাব্দী পূর্বেই তার পশ্চাতে অনেক কারণের মধ্যে সম্ভবত একটি যদি হয় তার প্রচারিত সন্ধর্মের সহজবোধ্য হৃদয়ংগম সাবলীলতা অপর দিকে নিশ্চিতভাবে ছিল কিছু রাজন্যবর্গ তথা শ্রেষ্ঠী শ্রেণীর নিরন্তর পৃষ্ঠপোষকতা আর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আশু ভবিষ্যৎ দৃষ্টি। ভারতবর্ষের রাজনীতিতে তখন এক ঐতিহাসিক পালাবদলের প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছে, যেখানে জম্বুদ্বীপের বিচ্ছিন্ন রাজবংশ ও গণগুলির ধারণা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে অখণ্ড ভারতবর্ষের রাজচক্রবর্তী সম্রাটের ধারণায়, আর দুর্দম গতিতে উত্থান ঘটছে মগধ, কোশল প্রভৃতি রাজ্যের। রাজনৈতিক ক্ষমতায় শ্রেষ্ঠীশ্রেণীর ঘটছে ক্রমাগত উত্থান সেখানে সদ্ধর্মবাদ এক বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে ঐক্য প্রতিষ্ঠায়। এই সমস্ত রাজাদের মধ্যে বুদ্ধের সমসাময়িক হিসেবে পাওয়া যায় বিম্বিসার, অজাতশত্রু প্রমুখের নাম আর সেই সঙ্গে মগধের উত্থান প্রসঙ্গ। অপর দিকে উত্তরের একটা বড়ো অংশ জুড়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে রয়েছে রাজা প্রসেনজিতের কোশল রাজ্য আর তার রাজধানী শ্রাবস্তী। সমসাময়িক অন্যান্য সমস্ত রাজ্যের তুলনায় প্রতিষ্ঠিত, ঐতিহ্যশালী, সম্পদপূর্ণ কোশল রাজ্য ছিল প্রকৃতপক্ষে তথাগতের কর্মভূমি। সেই কোশল তথা শ্রাবস্তীর উত্থান, সমৃদ্ধি ও বুদ্ধের ইদ্ধি এবং ধর্ম প্রচার সবে মিলে ফিরে দেখার চেষ্টা সেই সময়ের শ্রাবস্তীকে। আর সাথে সাথে পার্শ্ববর্তী মগধ, বৈশালী, গান্ধার, প্রভৃতিকে এবং অবশ্যই কোশল ও শ্রাবস্তীর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের নিরিখে মিলিয়ে দেখার এ এক প্রচেষ্টা।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""