রঙ্গালয়ের ছবিগুলি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, এ যেন কেবল ছবি নয়, এক-একটি স্মৃতিঘেরা মুহূর্ত। আর এই মুহূর্ত নির্মাণের কাণ্ডারি এক যান্ত্রিক বিস্ময়-নাম ক্যামেরা। আবিষ্কারের পরমুহূর্ত থেকেই এই যন্ত্র দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে রেখে গিয়েছে তার যুগান্তকারী স্বাক্ষর। বলা চলে, ক্যামেরা ছিল আসলে স্মৃতি ধরার কল। কিন্তু আজকের মুঠোফোনে তোলা ছবি স্মৃতিকে নয়, ধরে রাখে কেবল মুহূর্তকে। অর্থাৎ, দীর্ঘ যাত্রাপথে ছবি তোলার অভিমুখ আজ পরিবর্তিত। 'মেমোরি' বা স্মৃতি ধরার দিন ফুরিয়ে আজ শুধুই 'মোমেন্ট' বা মুহূর্ত যাপনের কাল। সমকাল প্রাত্যহিক সেই ছবিগুলিকে মুছে দেয়, কারণ তার গভীরে স্মৃতিমেদুর রসের সন্ধান মেলে না। অন্যদিকে, ক্যামেরায় তোলা ছবি ধূলিধূসরিত আবছা স্মৃতিকেও নিমেষে সজীব করে তোলে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই সেদিনের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল রঙ্গালয়ের স্মৃতিবিজড়িত মুহূর্তগুলি।
প্রেক্ষাপটে তখন বাংলা থিয়েটারের 'লোকশিক্ষার' যুগ। একদিকে দেশপ্রেম ও লোকায়ত আবেগের জোয়ার, অন্যদিকে বিনোদিনী-কুসুমকুমারীদের অভিনয়-জাদুতে মশগুল দর্শক। গিরিশ-মুস্তাফি-অমৃতলালের 'বাঁদীর প্রাণ', 'চৈতন্যলীলা' কিংবা 'বিষবৃক্ষ'র দাপটে কেঁপে উঠছে মঞ্চ। এই নাট্যমুখর সময়ের অন্যতম পুরোধা অমরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯০১ সালে 'রঙ্গালয়' সাপ্তাহিক প্রকাশের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাংবাদিকতায় এক বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা করেন। হীরালাল সেনের তোলা আলোকচিত্রের মায়াবী স্পর্শে থিয়েটারকে তিনি পৌঁছে দেন গৃহস্থের অন্দরমহলে। বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির হিসেব নিকেশ তুচ্ছ করে, উচ্চমানের কাগজে ছাপা সেইসব 'উপহারচিত্র' সেদিন গড়ে তুলেছিল নাট্যচর্চার এক অমূল্য 'ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ'-যা আজও ইতিহাসের এক অনন্য দলিল।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""