র্যালফ টমাস এইচ গ্রিফিথ। একজন ভারত বিশেষজ্ঞ। এই উপন্যাস তাঁর জীবনের ছায়া অবলম্বনে একটা বিশেষ সময়ের কল্পিত কাহিনি মাত্র। যদিও, উপন্যাসের মূল উপাদান ইতিহাস। তিনি ছিলেন প্রথম ইউরোপীয় যিনি সংস্কৃত ভাষায় রচিত বেদ থেকে সরাসরি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি বৈদিক লিপি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ শুরু করেন। তাঁকে ভারতে পাঠানো হয় অনুবাদ এবং ভারতীয় লোকেদের খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত করার জন্য। তিনি রামায়ণ সম্পূর্ণ ইংরেজিতে রূপান্তর করেণ। তাঁর অনূদিত অন্যান্য কাজের মধ্যে আছে বাল্মীকির রামায়ণ, যা প্রকাশিত হয় ১৮৭০ সালে, ঋকবেদ (১৮৮৯), সামবেদ (১৮৯৩), অথর্ববেদ (১৮৯৬) এবং যজুর্বেদ (১৮৯৯)। প্রকাশকাল যাই হোক, তিনি এই সমস্ত গ্রন্থেরই অনুবাদের কাজ করেন ১৮৪৯ থেকে ১৮৭০। কালিদাসের কুমারসম্ভবের অনুবাদ শুরু করেন ১৮৫৭ নাগাদ। তিনি বাংলায় মহাবিদ্রোহের সময়ে এসেছিলেন। তাঁর বাংলায় থাকাকালীন এক ক্ষুদ্র পর্ব নিয়েই এই উপন্যাস। যদিও এই ক্ষুদ্র পর্বই তৈরি করবে র্যালফ টমাসের পরবর্তী জীবনের মানচিত্র। ভারতীয় সাহিত্যের রত্নভাণ্ডার তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল এমনভাবেই, যে তিনি কখনোই আর এ দেশ ছেড়ে ইংল্যন্ডে ফিরে যাননি। ১৮৭৯ সাল থেকে ১৯০৬ পর্যন্ত র্যালফ টমাস গ্রিফিথ থাকেন কোটাগিরিতেই। এখানেই তাঁর মৃত্যু হয় ১৯০৬ সালের ৭ নভেম্বর। এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কুমারসম্ভবের ইংরেজি অনুবাদ এবং ভারতের মহাবিদ্রোহ। সেই সময়খণ্ডকে দেখার পাশাপাশি ব্যক্তি র্যালফ টমাস এইচ গ্রিফিথের জীবন ও চেতনাকে ধরার এক ক্ষুদ্র প্রয়াস রয়েছে এই উপন্যাসে।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""