শ্রীকান্ত যেমন শরৎচন্দ্রের, অপু নামের সঙ্গে বিভূতিভূষণ, শশী ডাক্তার মানিকের, দেবু পণ্ডিত বললেই তারাশঙ্কর, তেমনই কুবের নামটির সঙ্গে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্যে এইসব অবিস্মরণীয় চরিত্রের নামের সঙ্গে তাই আইডেন্টি-ফায়েড হয়ে আছেন লেখক স্বয়ং। কুবের সংসারী মানুষ। চাকুরে। যৌথ পরিবারের সদস্য।
দেশভাগের প্রোডাক্ট। মাথায় তার স্বপ্নের বোঝা।
কুবের দ্য ড্রিম মারচেস্ট। একফালি জমি, নিজের একটি বাড়ি করতে গিয়ে কখন সে জমি কেনা-বেচা করতে করতে নগর পত্তন করে ফেলে।
আসে ফসলের নেশা। অর্থবান কুবের কখন যেন আস্ত একটি দ্বীপের মালিক, পরিত্যক্ত দুর্গের দখলদার। কুবের দ্য চকদার তখন। একটা কিছু গড়ে তোলার নেশা যে তার রক্তের গভীরে।
কিন্তু উচ্চাশা আর নিঃসঙ্গতা, গড়ে তোলা আর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়াও কুবেরের রক্তের ভিতরে।
সে জানে সব কিছুর পরও সর্বনাশ তার জন্য ওৎ পেতে বসে আছে। সে শুধু একটা পুতুল। তার শুধু কাজ করে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই, কোনো রাস্তা নেই। বুঝতে পারে তার আকাঙ্ক্ষা, সাফল্য সবকিছুর শেষে অনিবার্য মানবজীবনের ব্যর্থতা। কুবের জানে এই পৃথিবীতে এক একদল। লোক এসে ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট বাগান ফুলগাছ সব বানায়। কত লোক পলেস্তারার সময় পন্থের কাজ করায়, ছাদের আলসেতে সিমেন্টের পরী বসায়, পুকুরঘাটে বেঞ্চ বসায় অথচ শেষে সব একদিন রাবিশ হয়ে ঠিকাদারের লরিতে ওঠে, জঙ্গলে ঢাকা পড়ে। নতুন লোক জায়গা বদলে আর এক জায়গায় গিয়ে বসতি বানায়।
এই ট্রাজিক চেতনাই এই উপন্যাসের মূল সুর। কাহিনির বিভিন্ন বুননে ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে যা ছড়িয়ে আছে।
এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের একটি মাইলস্টোন।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""