কতই বা বয়স তখন কল্যাণীর। সদ্য সতেরো, আনন্দমোহনে পড়ে। কলেজ পালিয়ে বাদলের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, ঘনিষ্ঠতা। সেই বুক ধুকধুক করা তুমুল সময়ে বাবা একদিন বাড়িতে ফিরেই ঘোষণা করলেন, বাঁধাছাদা কর, ইন্ডিয়া চলে যেতে হবে। মা-বাবা অবশ্য থেকে গেলেন। দাদা-ভাই-কাকা আর খুড়তুতো বোনের সঙ্গে ময়মনসিংহ ছেড়ে কলকাতায় এল কল্যাণী ছাব্বিশটা বছর কীভাবে কেটে গেল। বাবা-মা চলে গেছেন, চোখের দেখাটাও দেখতে পায়নি কল্যাণী। তিলজলায় মামাবাড়ির আশ্রয় ছেড়ে কল্যাণী এখন সল্টলেকে। অনির্বাণের স্ত্রী, জয়িষা-দীপনের মা। স্কুলের শিক্ষিকা। কিন্তু আজও ময়মনসিংহের জীবন তাড়া করে ফেরে কল্যাণীকে। কেবলই পিছু ডাকে। কেবলই। যে করেই হোক ফিরে আসব, বাদলকে কথা দিয়েছিল কল্যাণী। বন্ধুদেরও। কিন্তু ফেরা কি সহজ? কেমন চেহারা হবে সেই ফেরার? ঠিক কেমন, তাই নিয়েই এই মর্মস্পর্শী উপন্যাস। শুধু কল্যাণীর নয়, ওদেশ ছেড়ে-আসা যে-কোনও মানুষের অমোঘ কাহিনী 'ফেরা'।
Customers' review
Reviews
Be the first to review ""